ঢাকা প্রধান খবর

ট্রাইব্যুনাল নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো বললেন আমান আযমি

aman-azmi-bg20130715024533 সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: এই রায়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো বলে মন্তব্য করেছেন একাত্তরেরর মানবতাবিরোধী অপরাধে সদ্য ৯০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (বহিষ্কৃত) আবদুল্ল‍াহ-হিল আমান আযমি।সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।তিনি বলেন, “এটি একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়। আমরা প্রচণ্ড ক্ষুদ্ধ, কিন্তু বিস্মিত নই। কারণ অনেক আগে থেকেই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন।”তিনি আরো বলেন, “আমরা সুবিচার প‍াই নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে এ রায় দেয়া হয়েছে। য়ারা রাজনৈতিক এবং আদর্শগতভাবে আমার বাবাকে মোকাবেলা করে ব্যর্থ হয়েছেন তারাই এ কাল্পনিক মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।”সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি তার ঘাড়ে চাপানো হয়েছে অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আমার বাবা সরকারের কোনো মন্ত্রী বা আমলা ছিলেন না। একজন বেসামরিক মানুষ কি করে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অধিকারী হন?’’‘কিন্তু তিনি তো পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হোক চাননি’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রাজনৈতিকভাবে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে থাকা অপরাধ নয়।”তিনি বলেন, ‘‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউশন অফিসার তার বিরুদ্ধে ‍অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল নিজেও বলেছেন, প্রত্যক্ষ কোনো অপরাধ তার বিরুদ্ধে নেই। তিনি শান্তি কমিটির একজন সদস্য ছিলেন।”উল্লেখ্য, বয়স বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির পরিবর্তে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা ৫ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬১টির সবক’টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে সোমবার এ রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে বলেছেন, গোলাম আযম মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য। তিনি সবকিছুর জন্য দায়ী। তিনি শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী গঠন করেছিলেন। তাদের তিনি অপরাধ থেকে বিরত রাখতে পারতেন। কিন্তু সজ্ঞানে তিনি তা করেননি।তার বয়স ৯১ বছর। শুধু এই বিবেচনা করেই এ রায় দেওয়া হলো।ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে সরকারি-বেসরকারি পদে যেন স্বাধীনতাবিরোধীদের চাকরি না দেওয়া হয়, সেজন্য সরকারকে আদেশ দিয়েছেন।