চট্টগ্রাম জাতীয়

কর্ণফুলীতে আ.লীগ নেতার অবৈধ বালি বাণিজ্য!

Drager20130714135523স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোর.কম,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজিংয়ের নামে বালি উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি চক্র। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৯টি ড্রেজারকে হাতেনাতে জব্দ করেছে।

জব্দকৃত ড্রেজারগুলোর মধ্যে অন্তত একটি চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার বলে বন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রের তথ্য মতে, কর্ণফুলী নদী থেকে বালি উত্তোলনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ড্রেজিং করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না মেনে বিক্ষিপ্তভাবে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালি তুলছে একটি চক্র।

হটনিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, জব্দকৃত এসব ড্রেজারের মালিকদের অনেকেই বন্দরে ড্রেজিং করার জন্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। তবে হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে যেখানে ড্রেজিং করার কথা সেখানে তারা করছেন না। অনেকে বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ড্রেজিংয়ের অনুমতি নিয়ে ড্রেজিংয়ের নামে কর্ণফুলী নদী থেকে বালি উত্তোলন করছেন। এছাড়া রাতের আধাঁরে ড্রেজিং আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

হাসান-১ নামে একটি ড্রেজারসহ আরো বেশ কয়েকটি ড্রেজারমালিক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন না করার জন্যে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হলেও তা অমান্য করে বালি উত্তোলন করায় শনিবার রাতে নয়টি ড্রেজার জব্দ করে বন্দর বর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ।

সূত্র জানায়, বন্দর বর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের চিফ হাইড্রোগ্রাফার লে. কমান্ডার এম হাবিবুল আলমের নির্দেশে এসব ড্রেজার জব্দ করা হয়। জব্দ করা ড্রেজারগুলো বন্দরের ১ নম্বর জেটিতে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

জব্দকৃত ড্রেজারগুলোর মধ্যে আনলোড ড্রেজার তিনটি, লোড ড্রেজার তিনটি ও পালহেড ড্রেজার তিনটি।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী আনলোড ড্রেজার তিনটি হলো- মো.মোরশেদের মালিকানাধীন গাউছিয়া, মহিউদ্দিন বকুলের শাহ আমানত ও ক্যাপ্টেন মো.হাফিজের এনসি-৩।

লোড ড্রেজার তিনটি হলো- আবুল হোসেনের মালিকানাধীন সাজেদা, মোসলেম উদ্দিনের হাসান-১ ও মো.জাকারিয়ার এমভি সাফি। এছাড়া পালহেড তিন ড্রেজারের মধ্যে রয়েছে জাকারিয়ার মালিকানাধীন এমভি শাহ আমানত, মো. সেলিমের রিফাত ও মো.ফারুকের বিসমিল্লাহ।

হাসান-১ ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন। তবে ড্রেজারটির প্রকৃত মালিক জনৈক হাসান। এই হাসানও আওয়ামী লীগ সমর্থিত বলে জানা গেছে।

হাসানের কাছ থেকে মোসলেম উদ্দিন ভাড়া নিয়ে বালি উত্তোলন করছেন বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এসব ড্রেজারের ‍মালিকরা রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছেন। যা কর্ণফুলী নদী এবং বন্দর চ্যানেলের জন্য ক্ষতিকর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন,‘এদের আটক করে ছেড়ে দিলে রাতে গিয়ে আবারও বালি উত্তোলন শুরু করেন। এর আগেও তাদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল কিন্তু তারা মানছেন না।’

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন হটনিউজকে বলেন,‘কর্ণফুলী নদীতে বিক্ষিপ্তভাবে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় নয়টি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। এসব ড্রেজার মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।‘

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন হটনিউজকে জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন তাই এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাউড্রোগ্রাফি বিভাগ যে নয়টি ড্রেজার জব্দ করেছেন সেই তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন মোসলেম উদ্দিনের হাসান-১।

মোসলেম উদ্দিন বালি উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে হটনিউজকে বলেন,‘আমার তো কোন ড্রেজার নেই। আমার ভাইদের থাকতে পারে।’