চট্টগ্রাম শিক্ষাঙ্গন

ক্লাস চালুর দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

Noakhali Pic4কামাল হোসেন মাসুদ, নোয়াখালী:নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় সোনাপুর-সুবর্ণচর সড়কে সাড়ে ১১টা থেকে দুই ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করেরাখে। এ সময় দুই পার্শ্বের যানবাহন আটকা পড়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এ দিকে উপাচার্যের অপসারণ পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষকরাও।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দাবি আদায়ের নামে এপ্ল্যায়েড কেমেষ্ট্রি ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এসিসিই বিভাগের দুই শিক্ষককে ১৬ ঘন্টা আটকে রেখে মুচলেকা আদায়ের ঘটনায় ২ জুলাই মঙ্গলবার ১০ ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার ও দুই ছাত্রকে জরিমানা করা হয়। এনিয়ে এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনশন, বিক্ষোভ মিছিল করে এবং প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করলে ২ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনির্দিষ্টকালের জন্য নোবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য।

সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা হট নিউজকে জানান, প্রথমে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন অনুষদের কয়েকজন শিক্ষার্থী রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করে। তাঁর পক্ষ থেকে কোনসদত্তর না পাওয়ায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সুবর্ণচর-সোনাপুর সড়কে বাঁশ বেঁধে, ইটের গুড়ি ফেলে ও অবস্থান করে অবরোধ করে রাখে। এ সময় দুই পার্শ্বে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। পরে ওই সড়কে চলাচলকারীরা শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করলে রমজানে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি চিন্তা করে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী হট নিউজকে জানান, সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ভেবে আপাতত অবরোধ তুলে নেয়া হয়েছে। তবে যদি কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় খুলে না দেয় তাহলে আগামী কাল থেকে লাগাতার সড়ক অবরোধ চলবে।

সকালে শিক্ষার্থীরা দেখা করলে তাঁদের সাথে কোন বিষয়ে আলাপ হয়েছে জানতে চাইলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার প্রফেসর মমিনুল হক জানান, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে এবং ভিসি ও বেশিরভাগ শিক্ষক ঢাকায় অবস্থান করেন, সেহেতু আগামী কাল ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় যদি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় তাহলে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার পরিস্থিতি থাকলে খুলে দেয়া হবে নয়ত বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও নিয়ম অনুযায়ী যা হবে তাই মেনে নিতে হবে।