জাতীয় ঢাকা

জাজিরা ও নড়িয়ায় ১ সপ্তাহে পদ্মার ভাঙ্গনে অর্ধশত বসত বাড়ী বিলীন

Shariatpur River pic (1)মোঃ বোরহান উদ্দিন রব্বানী,শরীয়তপুর : পদ্মার পানি বৃদ্ধি ফলে ও প্রবল স্রোতে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরায় গত ১ সপ্তাহে পদ্মার ভাঙ্গনে অর্ধশত বসত বাড়ী, ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে দুটি বিদ্যালয়, দুটি গ্রাম ও ওয়াপদা লঞ্চঘাট।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার ওয়াপদা বাজার ও সাহেবের চর গ্রামের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে ওয়াপদা এলাকার সাহেবের চর গ্রাম, কলমির চর গ্রামের আনোয়ার খান, শাহ আলম মালত, সিদ্দিক খান, ফয়েজ মিজি, শামচেল হক ঢালী, মান্নান ছৈয়াল, ইয়াছিন মিজি, ইসমাইল জমাদ্দার, বাচ্চু মিজি, মোসলেম জমাদ্দার, আলতাফ খান, দুদু মিয়া দেওয়ান, নজরুল পঞ্চাইত,শাহাবালী সরদারের ঘর বাড়ী ও জাজিরা উপজেলার কুন্ডের চর ও মাঝের চর সহ প্রায় অর্ধশ বসত বাড়ী ও ওয়াপদা বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তফা তালুকদার, মোবারক শিকারী, দেলোয়ার দেওয়ান, আবুল কাজী, নুরু ঢালী ,মাসুদ সিকারী,জালাল দেওয়ানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পদ্মার ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে।

এ ছাড়াও পদ্মা পারের দুই হাজার একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন আতংকে পদ্মা পাড়ের মানুষ তাদেও বসত বাড়ির গাছ পালা কেটে ঘর ও আসবাবপত্র অন্যত্র শরিয়ে নিচ্ছেন। ভিটে বাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে নদী ভাঙ্গার শিকার অনেক লোকজন। এ ছাড়াও সুরেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়, সুরেশ্বর বাজার, ওয়াপদা সাহেবেরচর ও কলমির চর গ্রামের শত শত ঘরবাড়ী ভাঙ্গনে মুখে রয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত কোন সরকারী- বে-সরকারী কোন প্রতিষ্ঠানের লোকজন না যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে।

সাহেবের চর গ্রামের মেম্বার আব্দুল কাদের বলেন, গত এক সপ্তাহে সাহেরচর ও কলমির চর এলাকার ৫০/৬০টি বসত বাড়ী, ও ওয়াপদা বাজারের ১০/১২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আনোয়ার খান বলেন, আমাদের ঘর বাড়ী পদ্মায় ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা কোথায় থাকবো তাও জানিনা। গত এক সপ্তাহে সরকারী- বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠানের লোকজন আমাদের সাহায্যে নিয়ে আসেনি।

নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী হায়দার খান বলেন, প্রতি বছরই এ পদ্মা নদী ভাংছে। বর্তমানে যেখানে ওয়াপদা বাজার রয়েছে এখান থেকে ২ কিলোমিটার উত্তরে ছিল এ বাজার। এ বছর বাজারের পুরো জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারটি অন্য কোথাও নিয়ে স্থানান্তর করবে সে অবস্থা এখন আর এ এলাকার মানুষের নেই। ওয়াপদা বাজার, সুরেশ্বর লঞ্চ ঘাট সাহেবের চর গ্রাম কলমির চর গ্রাম রক্ষা করতে হলে সরকারের জরুরী পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন, এ বছর চন্ডিুপর থেকে সুরেশ্বর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পদ্মার তাীর সংরক্ষন কাজ করা হয়েছে। যেসব এলাকা পদ্মায় ভাংছে এসব এলাকায় বাধ নির্মানের পরিকল্পনা আছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, পদ্মার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ত্রান শাখাকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দিতে বলা হয়েছে। তালিকা আসলেই ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের জন্য সাহায্যের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ছবিরক্যাপশনঃ নড়িয়া উপজেলার সাহেবের চর ওয়পদা বাজার এলকার সড়কটি এভাবেই ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে পদ্মায়।