অপরাধ রাজশাহী

কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

pabna-map3-300x222পাবনা ব্যুরো:পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে জব্দকৃত সার তছরূপ, প্রদর্শনী পটের সাইনবোর্ড ও সার প্রদানে অনিয়ম, বাজারে নিম্নমানের সার- বিষ দিয়ে সয়লাব হওয়া সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশিষ্ট এলাকার কৃষকরা তার অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।
সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আতাইকুলা বাজার থেকে জনৈক সার ব্যবসায়ী সুরুজের প্রতিষ্ঠান থেকে পৌণে ছয় টন ডিএপি সার জব্দ করা হয়। এ নিয়ে এখনও মামলা চলায় সে সার গুদামজাত করে রাখার কথা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ওই সারের মাত্র কয়েক বস্তা অবশিষ্ট রয়েছে। সিংহভাগ সার এ কৃষি অফিসারের মাধ্যমে তছরুফ হয়েছে। বিষয়টি অনতিবিলম্বে তদন্ত করলে তার রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে সূত্র জানায়। এদিকে চলতি আউশ মৌসুমে উপজেলায় ৮ টি প্রদর্শনী পটের একটিতেও সাইনেবার্ড প্রদান করা হয়নি। এর মধ্যে মিয়াপুর গ্রামের ইয়াছিন, হাটবাড়িয়া বোয়ালমারি গ্রামের সোনাই, জোড়গাছা গ্রামের আব্দুল করিম, বামনডাঙ্গা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ক্ষেতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তারা সাইনবোর্ড দুরের কথা তারা তাদের প্রাপ্য সারও পাননি। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চাষিদের কাছে সাইনবোর্ড পৌছেনি। উপজেলায় যে তিল ক্ষেতগুলোর প্রদর্শনী চলছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও এ পর্যন্ত সাইনবোর্ড ও অন্যান্য সামগ্রী দেয়া হয়নি। তবে একটি সূত্র জানায় কিছু চাষি এসব দাবি করায় কৃষি অফিসার গা বাঁচাতে মালামাল না দিয়েই এসব চাষির কাছ থেকে ‘ব্যাক ডেট’ দিয়ে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এদিকে উপজেলার কৃষি বাজার কিছু নিম্নমানের কোম্পানীর ভেজাল সার, কীটনাশক ও অনুখাদ্যে ছেয়ে গেছে। বেশী ফলনের আশায় চাষিরা তা ক্ষেতে প্রয়োগ করে প্রতারিত হচ্ছে। ক্ষতিকর উপাদান থাকায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার হচ্ছে ফসলি জমি, জীব বৈচিত্র ও জনস্বাস্থ্য। খোজ নিয়ে জানা গেছে, নিম্নমানের কোম্পানীগুলোর সার, বিষ ও অনুখাদ্যের প্যাকেটের বর্ণনার সাথে উৎপাদিত পণ্যের কোন মিল নেই। এসব দেখার সরকারী দায়িত্ব সংশিষ্ট কৃষি কর্মর্তার। কৃষকরা অভিযোগ করেন, কৃষি অফিসার মোশারফ হোসেন এবং এস.এ. পি.পি.ও আব্দুস সালামকেকে ম্যানেজ করে এসব কোম্পানীর পণ্য বিভিন্ন সার-বিষের দোকানে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে।
কিছুদিন আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিস দিলেও পরে রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আপোষ রফা করে অবাধে ব্যবসার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাফলতির কারণে আউশ প্রনোদনা প্যাকেজের টাকা আজ পর্যন্ত কৃষকরা পায়নি। এতে সরকারের একটি মহতী উদ্যোগ সফল হচ্ছে না। তিনি বগুড়া থেকে অফিস করেন।
সূত্র জানায় বগুড়া থেকে রোববার আসেন আর বৃহস্পতিবার সাঁথিয়া ছেড়ে যান। তিনি ষ্টেশন লিভ করায় চাষিরা তথা কৃষি বিভাগ তার কাছ থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। প্রতি সপ্তাহেই তার ‘ষ্টেশন লিভ’ এর অনুমতি পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।