অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা

হয়রানি কমেনি করদাতাদের, এনবিআরের চিঠি

Ra-5020130714033557হটনিউজ২৪বিডি.কম :অর্থনৈতিক প্রতিবেদক,ঢাকা: কর বিভাগের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্থানীয় কার্যালয়গুলোয় করদাতাদের হয়রানি কমেনি। এতে উদ্বিগ্ন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে করদাতাদের হয়রানি করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর। এ-সংক্রান্ত চিঠি সম্প্রতি দেশের সব কর কার্যালয়কে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় কার্যালয়গুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে সব পর্যায়ের করদাতাদের হয়রানি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন নতুন করদাতারা।
এসব করদাতাকে বাড়িভাড়াসহ আয়-ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র সরবরাহ করতে বলা হয়। যার অনেকগুলোই নতুন করদাতাদের পক্ষে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।
এ ধরনের হয়রানির অভিযোগ এনবিআরে প্রায়ই আসছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসছে আয়কর বিবরণীর অডিট কার্যক্রম-সংক্রান্ত।
এ ধরনের অভিযোগে বলা হয়েছে, এক বছরের আয়কর বিবরণী অডিট করতে গিয়ে গত পাঁচ বছরের ব্যাংক হিসাব বিবরণী চেয়ে দেশের সব ব্যাংকে চিঠি ইস্যু করা হচ্ছে। এতে ব্যাংকের কাছে করদাতা ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
যার প্রভাবে ব্যবসায়ে ঋণ ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা নেয়ার ক্ষেত্রে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
একাধিক করদাতা এ প্রসঙ্গে বলেন, আয়কর মেলার বাইরে কর কার্যালয়গুলো থেকে সেবা পেতে দুর্নীতির আশ্রয় নিতে হয়। আয়কর রিটার্ন দাখিলের পর থেকে প্রতিটি ধাপে ধাপে হয়রানি করা হয়। তবে টাকা দিলে কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না।
করদাতাদের এ ধরনের হয়রানি না করতে কর কার্যালয়গুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনবিআর। এসব কর্মকর্তার সাবধান হওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে কর বিভাগের পক্ষ থেকে।
সেখানে বলা হয়েছে, করদাতাদের রিটার্ন বা এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র বা করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তবে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ধরনের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীর তত্ত্বাবধায়নকারী অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারকেও এ বিষয়ে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধ করা হবে। বিষয়টি দায়সারামূলক ও রুটিন কাজ মনে করার কোনো সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে এনবিআরের করনীতি বিভাগের সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, ‘কর কার্যালয়গুলোকে সেবামূলক করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এজন্য কর তথ্য ও সেবাকেন্দ্র স্থাপনসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাতে করদাতাদের দোরগোড়ায় সেবাটি পৌঁছে দেয়া যায়।’
করদাতাদের হয়রানি বন্ধ ও কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সততা বিভাগ চালু করেছে এনবিআর। রাজস্ব আদায়ে কোনো দুর্নীতি হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা এ বিভাগের। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। আগের মতো করদাতাদের হয়রানি পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া কর আহরণ সহজ করতে প্রতি বছর সপ্তাহব্যাপী মেলার আয়োজন করছে এনবিআর। দেশের সব বিভাগীয় শহরে কর তথ্য ও সেবাকেন্দ্র খুলেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কর কার্যালয়গুলোর সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অনলাইনে কর ও টিআইএন নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলে এনবিআরের পক্ষ থেকে করবান্ধব করার চেষ্টা চলছে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, করদাতাদের সঙ্গে এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হলে রাজস্ব আহরণে খারাপ প্রভাব পড়বে। এজন্য এনবিআরের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়াতে হবে।
যাতে করদাতাদের হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ হয়। একই সঙ্গে সেবাগুলো সহজ ও ব্যবহার উপযোগী করতে হবে