জাতীয় ঢাকা

রমজানে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে রাজধানী

police-rab20130713231124স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোর.কম,ঢাকা: রমজানের শুরু থেকেই তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে রয়েছে রাজধানী। রমজানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি সাদা পোশাকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান, সড়ক, স্থাপনা, মার্কেট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল ইত্যাদি স্থানে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে এই নিরাপত্তার মাত্রা আরো বাড়ানো হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের উপ-কমিশনার ও র‌্যাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

কর্মকর্তারা হটনিউজকে বলেন, রমজানে এখন থেকেই তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। শীর্ষ পর্যায়ের অফিসাররা নিরাপত্তার খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে কর্তব্যরত পুলিশের সংখ্যাও।

সূত্র জানায়, রমজান মাসে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে যায়। তাই প্রতিবারের মত এবারো রমজানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। চুরি-ছিনতাই রোধে থানাগুলোতে গঠন করা হয়েছে একাধিক টিম। এই টিমে কমিউনিটি পুলিশের পাশাপাশি বিট পুলিশকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এই টিমের প্রধান কাজ হবে ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধ এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা। এবার যেন এ ধরনের ঘটনা প্রথম থেকেই প্রতিরোধ করা যায় সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কমিশনারের দপ্তরে বিশেষ সভা হয়েছে। সভায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রমজানের শুরুতেই এসব পদক্ষেপ কার্যকর শুরু হয়েছে।

জানা যায়, পুলিশের নিজেদের মধ্যে সভা ছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কেট বিপণী-বিতানসহ অন্যান্য মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েককবার বৈঠক করেছে ডিএমপি। ব্যবসায়ী নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে মার্কেট ও বিপণী-বিতানের নিরাপত্তা সাজানো হয়েছে। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার ঠেকাতে সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুরুষ ও নারী পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া বেশি পরিমাণ অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রেও সহায়তা দেবে পুলিশ।

সব মিলিয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তায় ঢাকা থাকছে রাজধানী। এই ধাপগুলো হচ্ছে সকাল থেকে ইফতার, ইফতারের পর থেকে তারাবির নামাজ এবং সেহরীর সময়। এই সময়গুলোতে থাকছে ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে আলাদা নজরদারি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমি (ক্রাইম) হটনিউজকে বলেন, রমজান মাস ও ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে বিভিন্ন মার্কেট, বিপণী বিতান, কাঁচা বাজার, আড়তে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীরা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। এগুলো রোধে তিনস্তরের নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলছে মধ্য রমজানে এটা আরো বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে, পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) রমজানের তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। র‌্যাব সদর দফতরসহ ৫টি ব্যাটালিয়নকে পূর্ণ নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে।

র‌্যাব মিডিয়া পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যবারের মতো এবারের রমজান মাসেও রাজধানীতে বাড়তি নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব।

তিনি বলেন, রমজানের শুরু থেকেই আমাদের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলছে। পুরো সময়টাতেই আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবো।

হাবিবুর রহমান বলেন, শহরের প্রবেশ ও বাহির পথ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাঝে মধ্যে মোবাইল চেক পয়েন্ট স্থাপন করে তল্লাশি পরিচালনা করা হবে।

ব্যাংকপাড়া হিসেবে খ্যাত মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরমান আলী হটনিউজকে বলেন, মতিঝিল এলাকা ব্যাংকপাড়া হওয়ায় এখানে ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থাকে। এ কারণে আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি রয়েছে। পুলিশ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার হটনিউজকে বলেন, এই এলাকায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

চাঁদাবাজির অন্যতম স্পট পুরান ঢাকা। রমজানে পুরান ঢাকার নিরাপত্তা সম্পর্কে ডিসি হারুনুর রশিদ হটনিউজকে বলেন, এই এলাকায় আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।