জাতীয় ঢাকা ধর্ম

বৃদ্ধ ও অসুস্থদের হজের অনুমতি দেবে না সৌদি

hazi-sm20130713181017ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: বৃদ্ধ ও সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এবছর হজের অনুমতি দেবে না সৌদি আরব। এক ধরনের সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার রোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।শনিবার দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক আরব নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালিদ আল-মিরঘালানি পত্রিকাটিকে এ খবর নিশ্চিত করেন।

শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত (মিডল-ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস-এমইআরএস) সংক্রামক ব্যাধিটি ২০১২ সালে প্রথম ধরা পড়ে বলে জানা যায়। সম্প্রতি এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে বলেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে পাওয়া গেছে।গালফ নিউজের খবর অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে মোট ৭৭ জন ব্যক্তি এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে মারা গেছেন ৩৮ জন।সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বয়স্ক লোকজনের পাশাপাশি যেসব ব্যক্তি ডায়াবেটিকস, হৃদযন্ত্র, কিডনি কিংবা শ্বাসনালীর সংক্রমণ সংক্রান্ত অসুস্থতায় ভুগছেন, তাদেরও হজ বা ওমরাহ ভিসা দেবে না সৌদি আরব।এছাড়া অপুষ্টিজনিত শারীরিক সমস্যা বা ক্যানসারের মতো রোগে ভুগতে থাকা লোকজনসহ গর্ভবতী নারী ও শিশুদেরও এ বছর হজ বা ওমরাহ ভিসা দেওয়া হবে না।

সংক্রামক এই ব্যাধিটির বিস্তার ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার।

খালিদ আল-মিরঘালানি আরব নিউজকে বলেন, ‘আসছে হজ ও ওমরাহ মৌসুম থেকেই এ নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সৌদি মিশনগুলোতে পাঠানো হবে এবং মিশনগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে এসব নির্দেশনা পালন করবে।’

বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, ‘যেসব ব্যক্তি দুর্বল ও ভ্রমণের জন্য চিকিত্সক অযোগ্য ঘোষণা করেছেন, তাদের ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকবে সৌদি আরব সরকার।’

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, মক্কা ও মদীনায় যাওয়ার আগে প্রত্যেক হাজিকে সংক্রামক রোগের টিকা দেওয়া হয়েছে এমন সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। সেই সঙ্গে আবাসস্থলে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও হজের রীতি-নীতি পালনের সময় কাপড়ের তৈরি মুখোশ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।