জাতীয় ঢাকা

ভিত্তিপ্রস্তরেই সীমাবদ্ধ শাহবাগ আন্ডারপাস

Sahabagbg20130712204835হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: ভিত্তি প্রস্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইলো শাহবাগ মোড়ের আন্ডারপার্স (পাতাল পথ) নির্মাণ প্রকল্প। ছয় মাসের এ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজে হাত দিতে পারেনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও বারবার প্রশাসক পরিবর্তনের ফলে শাহবাগের পাতাল পথ (আন্ডারপাস) নির্মাণ প্রকল্প এখন হিমাগারে।

রাজধানীর ব্যস্ততম মোড় শাহবাগের পথচারী, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিরপদে, নির্বিঘ্নে রাস্তা পারাপারের জন্য গত বছর ২৬ নভেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক শাহবাগ মোড়ে ওয়ান ওয়ে (একমুখী) একটি আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তখন ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ছয় মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পটি শুরুই করতে পারেনি ডিএসসিসি।

এতে করে প্রায় ৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার এ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে এ দীর্ঘ সূত্রিতা।

আন্ডারপাস নির্মাণে দীর্ঘ সূত্রিতার কথা স্বীকার করে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম হটনিউজকে বলেন, “ডিপিডিসি, ওয়াসাসহ অন্যন্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। তাই কাজ শুরু করতে আমাদের একটু বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। তবে অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান করে কাজ শুরু করা যাবে বলে জানান তিনি।”

তিনি আরও বলেন, “আন্ডরপার্স (পাতাল পথ) নির্মাণের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার বা কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত এলাকায় ডিপিডিসি এবং ওয়াসার লাইন থাকায় কাজে হাত দিতে পারছি না। ইতোমধ্যে এ দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের সংযোগ সরিয়ে নেওয়ার জন্য। এরমধ্যে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে তাদের সংযোগ সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এরপরেও যদি তারা সংযোগ না সরায় তাহলে আমরা নিজেরাই কাজ শুরু করে দিবো। এসব সংযোগ থাকার কারণেই মূল কাজে এতো দীর্ঘসূত্রিতা।”

এর আগে গতবছর ২৮ আগস্ট শাহবাগ মোড়ে বাসের ধাক্কায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র তৌহিদুজ্জামানের মৃত্যুতে ২ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতানুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর বেশ কিছু দিন পর তৎকালীন প্রশাসক জিল্লার রহমান গত বছর ২০ নভেম্বর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন করেন।

এরপর ডিএসসিসির পক্ষ থেকে একটি খসড়া নকশা তৈরি করে সেই নকশা বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধি দলের কাছে পাঠানো হয়। বুয়েট প্রতিনিধি দলের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এখন প্রকল্পের কাজ শুরু করার অপেক্ষায় ডিএসসিসি।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের এম আরটি-৬ (মার্স র‌্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্প এবং জাদুঘর-রমনা সংলগ্ন আরেকটি বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের আওতায় (কেইস প্রকল্প) ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প থাকায় পাতাল ব্রিজটি সিঙ্গেল লাইন করা হচ্ছে। এ কারণে প্রস্তাবিত চারলেন সিস্টেমের প্রকল্পটি পরিবর্তন করে শুধুমাত্র টিএসসি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন করা হচ্ছে। তবে শাহবাগ চত্বরকে ঘিরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়,স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ডিএসসিসিতে একাধিক প্রকল্প রয়েছে।

প্রস্তাবিত এসব প্রকল্প শাহবাগ চত্বরে বাস্তবায়ন হলে ভূমিধসসহ বড় ধরনের বির্পযয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে পরিবেশবিদরা। একদিকে এমআরটি-৬ প্রকল্প অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের ফুটওভার ব্রিজ এবং ডিএসসিসির আন্ডারপাস। এগুলো তৈরির মতো ক্যাপাসিটি শাহবাগে নেই বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিটিসিএ জানিয়েছে,ভার্বিক্যাল ক্লিয়ারেন্স অনুযায়ী ১৮ ফিট উচ্চতা এবং নরমাল ৩৬ ফিট লম্বা ফুটওভার ব্রিজের পাশাপাশি আন্ডারপাস হলে বির্পযয় হতে পারে। আর এ কারণেই প্রস্তাবিত আন্ডারপাস ব্রিজের প্রকল্প পরিবর্তন করে সিঙ্গেল লাইন করা হয়েছে। তবে এম আরটি-৬ প্রকল্পসহ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বির্পযয় আসতেই পারে। আর এ জন্য বিশেষজ্ঞরা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পটি বাতিলের আহ্বান জানান।