খুলনা বিনোদন

ভেড়ামারা শিল্পকলা একাডেমী এখন গুদামঘর

Kst-1কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে:নামেই শিল্পকলা একাডেমী। কোন কার্যক্রম নেই। নেই বাদ্যযন্ত্র, রেজুলেশন খাতা। একাডেমী ভবন রয়েছে। তা এখন মাধ্যমিক স্তরের বই রাখার গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। নামকাওয়াস্তে কমিটি দিয়ে ৩ বছর ধরে চলছে এমন অবস্থা। স্থানীয় শিল্পী এবং বিভিন্ন সংগীত একাডেমীর পরিচালকরা শিল্পকলা একাডেমীকে কার্যকর করার জন্য একাডেমী খালি করে সংস্কারের জন্য সরকারী বরাদ্ধ দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন। ভেড়ামারা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সময়ে জেলা পরিষদ থেকে উপজেলা চত্বরের বিএডিসি’র ভবনটিই ভেড়ামারার সংগীত প্রেমিকদের জন্য শিল্পকলা একাডেমী হিসেবে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিল্পকলা সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রে পরিনত হয়। ভেড়ামারা সাংস্কৃতিক একাডেমী, হিসনা থিয়েটার, কলতান সঙ্গীত একাডেমী, শিশু নাট্যম, অর্নির্বান সঙ্গীত একাডেমী, কিন্নরী সঙ্গীত একাডেমী, পরানখালী সঙ্গীত একাডেমী, বাহাদুরপুর সঙ্গীত একাডেমী, গোলাপনগর সঙ্গীত একাডেমী ভেড়ামারার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। খুলনা এবং রাজশাহী বেতারে ভেড়ামারার বহু শিল্পী সুনামের সাথে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়েও ভেড়ামারার শিল্পীরা শ্রেষ্টত্ব অর্জন করেছে। কলতান সঙ্গীত একাডেমী’র সাধারন সম্পাদক আজিজুল হক আজিম জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া জেলা কালচারাল অফিসার (সাবেক) আ ফ ম ওবাইদুল্লাহ খাঁন ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর গতিশীল হয়েছিল ভেড়ামারা শিল্পকলা একাডেমী। এরপর হঠাৎ করেই তাকে সরিয়ে মনগড়া কমিটি করে শিল্পকলাকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে এর কোন কার্যক্রম নেই। গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ভেড়ামারা সাংস্কৃতিক একাডেমীর পরিচালক ও শিল্পকলা একাডেমীর আজীবন সদস্য কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলু জানিয়েছেন, নামকাওয়াস্তের কমিটি দিয়ে ৩ বছর ধরে অচল করে রাখা হয়েছে শিল্পকলা একাডেমী। বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরের বই’র গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কোন কার্যক্রম নেই। অথচ এ শিল্পকলাকে কেন্দ্র করেই সাংস্কৃতিক একাডেমী’র শিল্পী রুবিনা খাতুন জারী গানে এবং নৃত্যে রনি ও তার দল পেয়েছে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শ্রেষ্টত্বের পুরস্কার। তিনি জানান, ভেড়ামারার মানুষ সাংস্কৃতিক মনা। এখানে রয়েছে ১০/১২টি নৃত্যে ও সংগীত একাডেমী। লোকজ, পল্লীগীতি, নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সংগীত, জারী গান ধরে রাখতে শিল্পকলা একাডেমী’র কার্যক্রম পুনরুদ্ধার জরুরী। এর সাথে প্রয়োজন পৃষ্টপোষকতা এবং সরকারী সহযোগিতা ও শিল্পীদের আর্থিক ভাবে সাহায্যে করা। শিল্পকলা একাডেমী ৩ বছর ধরে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এর সত্যতা স্বীকার করে ভেড়ামারা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারন সম্পাদক এবং হিসনা থিয়েটার’র পরিচালক রোকনুজ্জামান রুনু জানিয়েছেন, নামেই শিল্পকলা। এখানে নেই কোন সরকারী সাহায্যে সহযোগিতা, বাদ্যযন্ত্র, এবং শিল্পীদের কোন সহযোগিতা। বিভিন্ন দিবসে শুধু শিল্পীদের প্রয়োজন হলে শিল্পকলা একাডেমীর সাইন বোর্ড ব্যবহার করা হয়। তিনি এর থেকে উত্তরনের জন্য শিল্পকলা খালি করা এবং সংস্কারের জন্য সরকারী বরাদ্ধের দাবী জানান।