খুলনা খেলা

বিদেশের মাটিতে খেলার স্বপ্ন দেখেন নড়াইলের নারী ফুটবলাররা

Narail-01 (11.07.13)ফরহাদ, নড়াইল:ইতোমধ্যে দেশের মাটিতে সুনাম অর্জন করেছেন নড়াইলের নারী ফুটবলাররা। স্বপ্ন এখন বিদেশের মাটিতে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা এবং দেশের গৌরব বয়ে আনা। নিজেদের দক্ষ করে তুলতে প্রতিদিন তাই সাধনা করে যাচ্ছেন তারা। চলছে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণও।

নড়াইল শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে শেখহাটি ইউনিয়নের হাতিয়ারা, গুয়াখোলা ও বাকলি গ্রামের স্কুল-কলেজের মেয়েরা লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ নিতে প্রতিদিনই শহরে আসছেন গ্রামের মেয়েরা। তাদের দেখাদেখিতে জেলা শহরের উপজাতিপাড়ার মেয়েরাও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। স্বপ্ন দেখেন বড় খেলোয়াড় হওয়ার। নারী ফুটবল দলের প্রশিক্ষক কার্ত্তিক দাস (৫৫) জানান, নড়াইলের ১০ নারী খেলোয়াড় দেশের প্রথম প্রমীলা ফুটবল লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ২০১১ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১০ জন নারী খেলোয়াড়ের মধ্যে বিউটি, বিপাশা, রুনা, শর্মিলা ও রনি খেলেছেন ওয়ারী ক্লাবে এবং সরস্বতী, প্রতিমা, বিচিত্রা, শেফালি ও শ্যামলী খেলেছেন আরামবাগ ক্লাবে। এছাড়া বিপাশা, রুনা, পদ্মাবতী ও বিউটি বিশ্বাস অনুর্ধ-১৯ জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন। পদ্মাবতী জাতীয় দলের হয়ে মালয়েশিয়ায়ও খেলেছেন। প্রশিক্ষণরত অন্যরাও বাংলাদেশের হয়ে বিদেশের মাঠে খেলার স্বপ্ন দেখেন। এদিকে, এ বছরও (২০১৩) নড়াইলের ১৪জন নারী ফুটবলার বিভিন্ন ক্লাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কার্ত্তিক দাস।

যেভাবে ফুটবল খেলায় উদ্বুদ্ধ হলেন তারা

২০১০ সালের ২৪ জুলাই। নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম নারী ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। উপস্থিত সবাইকে চমকে দিয়ে মাঠে নামেন দুই নারী ফুটবল দল। দর্শকদের পাশাপাশি নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাওলাদার মোহাম্মদ রকিবুল বারী এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা নারী খেলোয়াড়দের খেলা দেখে মুগ্ধ হন। খেলায় বিবাহিত নারী দলের প্রতিপক্ষ ছিলেন অবিবাহিত মেয়েরা। এ ম্যাচের আয়োজন করেছিলেন হাতিয়ারা গ্রামের পুতুল মজুমদার ও বিচিত্রা বিশ্বাসসহ কয়েকজন স্থানীয় নারী। এরপর এগিয়ে আসে বেসরকারি সংস্থা ‘বাঁচতে শেখা’। ‘জ্যোতি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা’ গঠন করে গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা ক্রীড়া সংস্থার তালিকাভূক্ত প্রশিক্ষক কার্ত্তিক দাস নারী ফুটবল দলের প্রশিক্ষণ শুরু করেন। এ সময় ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি সাবেক জাতীয় ফুটবল তারকা শেখ আসলামও মেয়েদের ১০টি ফুটবল এবং কয়েকটি জার্সি ও প্যান্ট কিনে দেন। ফুটবল খেলায় আগ্রহ সৃষ্টি এবং মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য কার্ত্তিক দাস বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যান। কথা বলেন অভিভাবকদের সাথে। পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠে এ প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়। বর্তমানে ২৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ফুটবল খেলার নানা কৌশল শেখানোসহ শরীরিক ফিটনেসের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হয়। এ ব্যাপারে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারী ফুটবলারদের এগিয়ে চলার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের কথা:

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু জানান, নড়াইলে ‘ফুটবলের প্রাণ’ বলে পরিচিত কার্ত্তিক দাস মেয়েদের নিয়মিত ফুটবল অনুশীলনের পাশাপাশি ছেলেদেরও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রমীলা ফুটবল ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, নারী ফুটবলে নড়াইলের মেয়েরা অনেক এগিয়ে গেছেন। জাতীয় অনুর্ধ-১৯ দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন এবং জাতীয় দলের হয়ে একজন খেলেছেন বিদেশের মাটিতেও।