ঢাকা রাজনীতি

তৃণমূল পর্যায়ে মাস ব্যাপী কর্মীসভা ও ইফতারের উদ্যোগ

Regencys-ifter-sm20120731181733শেরপুর থেকে মোঃ মেরাজ উদ্দিন:শেরপুর জেলায় বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলায় ভেঙ্গে পড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। পাঁচ সিটিতে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর থেকেই শেরপুর জেলায় বিএনপি মাঠে নামতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক সভাসমাবেশ করে নেতাকর্মীদের অনেকটাই চাঙ্গা করে তুলেছে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। রমজানের পরে আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে পুরো রমজান মাস জুড়েই গ্রহণ করা হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীসভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শেরপুর জেলায় বিএনপি ও তার জোট সরকার বিরোধী আন্দোলন করতেই পারেনি। মুলত দুটি কারনেই বিএনপি মাঠে নামতে পারেনি। এর একটি হলো নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও ব্যাপক পুলিশি হয়রানী, অপরটি হলো আভ্যন্তরীন কোন্দল। কেন্দ্র থেকে কোন কর্মসুচী ঘোষনা করা হলেই ঢালাওভাবে কাগুজে মামলা সাজিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হতো একাধিক মামলা। এ অবস্থা অব্যহত ভাবে চলে আসছিল। যে কারণে প্রায় প্রতিটি নেতাকর্মীরে বিরুদ্ধে ১টি থেকে শুরু করে ২৫/৩০টি মামলা পর্যন্ত হয়েছে। জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে শতাধিক আজগুবী মামলায় হাজার হাজার নেতাকর্মী হয়রানরি শিকার হয়েছে। আবার আভ্যন্তরীন কোন্দলেও বিএনপির একটি অংশ সরকারী দলের সাথে আতাত করে দলের ভিতরে কোন্দল সৃষ্টি করে আসছে। তারা নানা ভাবে দলের কর্মসূচী পালনে বাধার সৃষ্টি করে আসছে। যে কারণে দলীয় অফিস পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারছে না জেলা বিএনপি। দলীয় নেতাদের অভিযোগ দলীয় কার্য্যালয়ে কোন সভা সমাবেশ দিলেই সরকার সমর্থক ওই অংশটি পাল্টা মিটিং ডেকে পুলিশ দিয়ে দলীয় অফিসে সভাসমাবেশ বন্দ করে দেয়। সরকার সমর্থক ওই অংশটিকে টিকিয়ে রাখতে ইতিপূর্বে পুলিশ পাহাড়ায় সভা সমাবেশ করানো হয়েছে। শেরপুরে বিএনপির বিশাল কর্মী ও সমর্থক বাহিনী রয়েছে। সাধারণ মানুষও বিএনপিকে ভোট দেয়, কিন্তু প্রতিটি নির্বাচনেই এখানকার কতিপয় নেতা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বিএনপি ও তার জোটের সমর্থক প্রার্থীর পরাজয় ঘটে। ফলে শেরপুর সদও উপজেলায় মাত্র ১টি ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান ছাড়া আর কোন নির্বাচিত জন প্রতিনিধি নেই বিএনপির। সাবেক মন্ত্রী খোন্দকার আব্দুর হামিদের পরে বিএনপির হাতছাড়া হযে আছে শেরপর সদর আসটি। যে কারণে জেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বিএনপির নেতাদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন বিএনপিকে ভোট দিয়ে কি হবে ? তাদের নেতারাই ভোট বিক্রি করে তাদের প্রার্থীকে ফেল করাবে। শেরপুরের মানুষ মনে করে বিএনপি প্রার্থীকে ফেল করানোর জন্য আওয়ামীলীগ লাগবে না, বিএনপির চিহ্নিত কয়েকজন নেতাই যথেষ্ঠ। ইতিপূর্বে যারাই বিএনপির প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছে , তাদেরকেই আবার দলের ভাল ভাল পদে বসিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এ কারণে দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় হতাশা। আবার পুলিশী হয়রানী তো আছেই। দল ক্ষমতায় আসলে ওই নেতাদের অত্যাচারে সাধারণ নেতার্মীরা হয় বঞ্চিত। এ কারণে জমে উঠেনি শেরপুরে সরকার বিরোধী আন্দোলন। এ অবস্থায় দলের প্রভাবশালী দুই নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক হুইপ আলহাজ্ব মোঃ জাহেদ আলী চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল ইসলাম কালাম এর অকাল মৃত্যুতে দলের হাল ধরতে হয়েছে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক পৌরপতি আব্দুর রাজ্জাক আশীষকে। নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও তারা দলের পুরনো হারিয়ে যাওয়া ইমেজকে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় বিএনপির হতাশ নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে নানা কর্মসুচী হাতে নিচ্ছেন। দেশের আলোচিত ৫ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ায় দলের নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল। এ অবস্থায় নেতার্মীদের চাঙ্গা করে তুলছেন তারা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দলকে চাঙ্গ করতে অনাহুত ঘটনা এড়াতে দলীয় কার্যালয় ব্যবহার না করে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাসায়ই শুরু করেছেন দলীয় কার্যক্রম। ইতিমধ্যেই আলাদা আলাদাভাবে শেরপুর সদর, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা এবং জেলা বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের রোজার পর সরকার বিরোধী আন্দোলন ও নির্বাচনী ময়দানে মাঠে নামানোর জন্য তৃনমূল পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কর্মীসভা ও ইফতার মাহফিলের কর্মসুচী গ্রহন করেছে। কর্মসুচীর অংশ হিসেবে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১২ জুলাই সিংগাবরনা, ১৩ জুলাই মালিঝি কান্দা, ১৪ জুলাই কাকিলাকুড়া, ১৫ জুলাই গড়জরিপা, ১৭ জুলাই তাতি হাটী, ১৮ জুলাই গৌরীপুর, ২০ জুলাই কেকেরচর, ২১ জুলাই রাণী শিমুল, ২২ জুলাই হাতী বান্দা, কাংসা ইউনিয়ন, ২৪ জুলাই শ্রীবরদী পৌরসভা, ২৫ জুলাই ধানশাইল, ১৭ জুলাই শ্রীবরদী সদর, ২৯ জুলাই গোসাইপুর, ৩০ জুলাই ভেলুয়া ও ১ আগষ্ট কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নে কর্মীসভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর সদরে ১৪ জুলাই বাজিতখিলা ইউনিয়নে কর্মীসভা ও আফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। জেলা এিনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, দেশের মানুষ এ জুলুমবাজ সরকারের বিপক্ষে চলে গেছে। কাজেই সামনের নির্বাচনে শেরপুরের ৩টি আসনেই বিজয়ী করে দলকে আমরা উপহার দিতে চাই। একই সাথে বিএনপির উন্নয়নের রাজনীতিতে শেরপুরকে এগিয়ে রাখতে চাই। এ জন্যই আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে কর্মসূচি গ্রহ করেছি। দলের কর্মসূচীতে মতপার্থক্য ভূলে সবাইকে অংশগ্রহণ করার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি।