জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর বিনোদন

আমরা চলচ্চিত্রেও পিছিয়ে থাকবো না – প্রধানমন্ত্রী

7171af3b-a441-4cdc-80f5-e97c092e3210আছাদুজ্জামান,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: আমরা সব কিছুতে এগিয়ে গেছি, চলচ্চিত্রেও পিছিয়ে থাকবো না, এই ঘোষণা দিয়েছন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন আমাদের মেধাবী অভিনেতা-অভিনেত্রী রয়েছেন, কলাকুশলী রয়েছেন পর্যাপ্ত সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে তারাও আন্তর্জাতিক মানের কাজ করতে পারবেন।

বুধবার (১১ মে) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবুন্ধ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৪ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় তিনি বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ডিজিটাল পদ্ধিতর ব্যবহার ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্মাতাদের ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি জোর দিতে হবে। আর নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দেশে সিনেমা হলগুলোকেও আধুনিকায়নের কথা বলেন তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু সরকারি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। আমি আশা করি বেসরকারি পর্যায় থেকেও এই শিল্পের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যবসা পরিবর্তনের জন্য অনেক হল মালিক তাদের সিনেমা হল ভেঙে ফেলছেন। অথচ এটিকে আরও আধুনিক করলে ব্যবসা ও সুস্থ সামাজিক বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা যায়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশও বটে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজকে এই বার্তা দেওয়া প্রয়োজন যে অশুভ শক্তির দমন সম্ভব। চলচ্চিত্র হতে পারে তার অন্যতম মাধ্যম।

শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র এমন একটি গণমাধ্যম যেখানে মাটি ও মানুষের কথা, সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নার সচিত্র প্রতিফলন ঘটে। তাই নির্মাতাদের প্রতি আমার অনুরোধ, দর্শকরা ছবি দেখে যাতে কিছু শিখতে পারে এবং এগুলো প্রয়োগ করে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে সেদিকটি খেয়াল রাখবেন।

তিনি আরও বলেন, দর্শকদের হলে ধরে রাখতে হলে একদিকে যেমন ভালো ছবি নির্মাণ করতে হবে, তেমনি সিনেমা হলের পরিবেশও সুন্দর করা প্রয়োজন।’

চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনই নয়, শিক্ষা এবং সমাজ সংস্কারের ও পরিবর্তনের মাধ্যম, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এসব দিকে নজর দিতে হবে, আর সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েই চলচ্চিত্র বানাতে হবে।

তবে পাশাপাশি সময়ের অনেক চাহিদা থাকে উল্লেখ করে তিন বলেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গেও তাল মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, রঙেরও চাহিদা পাল্টায়, একেক সময় একেক রঙ মানুষের ভালো লাগে। এগুলো বুঝতে হলে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, লেখাপড়া প্রয়োজন। আর এ কারণেই জাতীয় চলচ্চিত্র ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হয়েছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অধ্যয়ন ও গবেষণা চলচ্চিত্রের মান উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। আমরা চলচ্চিত্র নির্মাণ, চলচ্চিত্র বিষয়ে অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

দেশেই আজকাল ভালো ভালো সিনেমা তৈরি হচ্ছে, এক সময়ে চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও মানুষ এখন এসব সিনেমার কারণে প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নিজেও এসব সিনেমা দেখন বলে জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকায় বসে সিনেমা দেখা সম্ভব হয় না, কিন্তু যখনই বিদেশে যাই বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে বসে এসব সিনেমা দেখি। তিনি বলেন, আগে থেকেই বলে রাখি যেন ভালো ভালো সিনেমা রাখা হয়। আর থাকেও। ফলে আমি জানি অনেক ভালো ভালো ছবি আমাদের নির্মাতারা বানাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেক সিনেমা এমন জীবনধর্মী যে দেখলে মনে দাগ কেটে যায়। অভিনয়ও চমৎকার। শিশুশিল্পী হিসেবে যারা অভিনয় করে তাদের অভিনয়ও মুগ্ধ করে দেয়।

সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, আমাদের যোগ্যতা ও মেধা রয়েছে। তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সবকিছুতেই আজ আমরা এগিয়ে, তাই চলচ্চিত্রেও পিছিয়ে থাকবো না, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তার সরকার নিয়মিতভাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করছে আর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।