স্বাস্থ্য

তালা ঝুলছেই রেলওয়ে হাসপাতালে

২নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ১০ মে : রাজশাহী রেলওয়ে হাসপাতালে তালা ঝুলছে। গত ৬ মে থেকে বন্ধ রয়েছে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একের পর এক তান্ডবের পরও রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেননি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) খায়রুল আলম।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে তিনি যেমন থানায় কোনো মামলা দায়ের করেননি, তেমনি ব্যক্তিগতভাবেও হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে থানায় মামলা দায়ের করার অনুমতি দেননি। ফলে কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন হাসপাতালটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এর আগে গত ৩ মে মঙ্গলবার হাসপাতালের শুধু বহির্বিভাগে (আউটডোরে) কর্মবিরতি শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওই সময় তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে তিন দিনের আলটিমেটাম দেন।

কিন্তু এ সময়ের মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় গত ৬ মে শুক্রবার থেকে তারা অভ্যন্তরীণ (ইনডোর) বিভাগেরও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ওই দিন তারা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল  কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করে হাসপাতালে তালা ঝুলিয়ে দেন। সেই থেকে হাসপাতালে তালা ঝুলছেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুই বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন হাসপাতালটির প্রধান মেডিকেল অফিসার (সিএমও) নিলেন্দ্র কিশোর ভট্টাচার্য। এরপর গত রোববার  তিনি থানায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ফলে আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদিকে হাসপাতাল একটানা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা প্রার্থীরা। জানা গেছে, হাসপাতালে বহির্র্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন রেলওয়ের কর্মচারী এবং আরো প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন তাদের পরিবাবের সদস্য চিকিৎসা নেন। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বিভাগেও প্রায় সময়ই কয়েকজন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। বর্তমানে এসব পুরোপুরি বন্ধ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোগীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে হাসপাতালের প্রধান মেডিকেল অফিসার নিলেন্দ্র কিশোর ভট্টাচার্য বলেন, তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) খায়রুল আলম তাকে মামলা করতে বারণ করেছেন। এ জন্য তিনি মামলা করতে পারেননি।

তিনি আরো জানান, জিএম বর্তমানে ঢাকায় আছেন। মোবাইল ফোনেই তিনি তাকে মামলা করতে বারণ করেছেন। তবে তিনি (জিএম) ঢাকা থেকে ফিরলে তার সঙ্গে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে জিএম খায়রুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে থানায় মামলা না হওয়া অথবা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌক্তিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত কাজে যোগ না দেয়ার কথা জানিয়েছেন হাসপাতালটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তারা বলছেন, সন্ত্রাসীরা বার বার হাসপাতালে তান্ডব চালায়। এগুলো সহ্য করতে হয় তাদের। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের উৎপাত অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। এ অবস্থায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে হাসপাতালে তাদের অবাধ বিচরণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী রেলওয়ে হাসপাতালে গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় যুবলীগ কর্মীদের তান্ডবের প্রতিবাদে গত ৩ মে মঙ্গলবার থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপর গত শুক্রবার থেকে তারা অভ্যন্তরীণ বিভাগের কার্যক্রমও বন্ধ করে দেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নগরীর শিরোইল কলোনি এলাকার যুবলীগের কয়েকজন কর্মী হাসপাতালের কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায়ই জোর করে ওষুধ নিয়ে যায়। এই ওষুধ তারা বাইরে বিক্রি করে মাদক সেবন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্বে আছে রেলওয়েরই কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছেলে। এদের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ওয়েটিংরুম বেয়ারার কামাল পিন্টুর ছেলে মুন্না, চিফ অপারেটিং সুপারিটেনডেন্ট অফিসের এমএলএসএস গোলেহার বেগমের ছেলে কমল, সাবেক পোর্টার আবদুল করিমের ছেলে ইসলাম এবং প্রহরী আলাউদ্দীনের ছেলে বুড্ডা।

এরাই বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ওষুধের দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই ‘উৎপাত’ করে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর