শিক্ষাঙ্গন

যবিপ্রবির নিরাপত্তা প্রহরী চাকরিচ্যুত, এক শিক্ষার্থী স্থায়ী বহিষ্কার

৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ৫ মে : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় জেষ্ঠ্য নিরাপত্তা প্রহরী বদিউজ্জামান বাদলকে চাকরিচ্যুত ও জিইবিটি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নাসির উদ্দীন বাদলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া অপর চার শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে যবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডের ৩৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে রিজেন্ট বোর্ডের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

যবিপ্রবি জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক হায়াতুজ্জামান মুকুল জানান, বুধবার অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের ৩৪তম বিশেষ সভায় এক কর্মচারী ও পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (জিইবিটি) বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নাসির উদ্দীন বাদলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে জৈষ্ঠ্য নিরাপত্তা প্রহরী বদিউজ্জামান বাদলকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান কামালকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছর বহিষ্কারের সুপারিশের পরিবর্তে তাকে হল থেকে বহিষ্কার ও অভিভাবকের মুচলেকাসহ বিভাগের সুপারভাইজারের অনুমতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও ২ মাসের মধ্যে তার একাডেমিক থিসিস-এর কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। একইভাবে জিইবিটি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রাশিদুজ্জামান রাজনকেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ বছর বহিষ্কারের সুপারিশের পরিবর্তে তাকে হল থেকে বহিষ্কার ও অভিভাবকের মুচলেকাসহ বিভাগের সুপারভাইজারের অনুমতিক্রমে ৪র্থ বর্ষের ২য় সেমিস্টার এর ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে; তবে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করতে পারবে না। আর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র রাসেল পারভেজ ও একই বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র সাজেদুর রহমান শপুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

যবিপ্রবি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নৈশ প্রহরী বাদল ও তার বহিরাগত বন্ধুদের সঙ্গে শিক্ষাথীদের ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ৯ এপ্রিল রিজেন্ট বোর্ডে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কর্মচারী বদিউজ্জামান বাদল ও শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন বাদলকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং ৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির সুপারিশ করা হয়।
হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর