রাজনীতি

‘মে দিবসে’ সোচ্চার শ্রমিকের ভিড় প্রেসক্লাব-রাস্তায়

৯নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ২ মে : ‘আন্তর্জাতিক মে দিবস’-এ সোচ্চার শ্রমিকরা ভিড় করছেন জাতীয় প্রেসক্লাবে। সামনের রাস্তা, ভেতরের কক্ষগুলোতে তারা জড়ো হয়েছেন মজুরি, নিরাপত্তাসহ নানা চাহিদা প্রতিষ্ঠায়।

এদিন সকাল থেকেই একের পর এক শ্রমিক সংগঠন র্যা লি নিয়ে উপস্থিত হতে থাকে। প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তার দুই দিকেই মানববন্ধন, সমাবেশ করেন তারা। ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন নেতা-কর্মীরা। শ্রম-অধিকার নিয়ে প্রচলিত জনপ্রিয় গান বাজানো হয় মাইকে।

সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন হলেও বেশিরভাগ দাবি তাদের এক। নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতির মাধ্যমে স্থান জুড়ে অবস্থান নিতে থাকেন।

রানা প্লাজা ঘটনার তিন বছর পার করেছেন শ্রমিকরা কয়েকদিন আগেই। সে শোকের প্রভাব রয়েছে মে দিবসের কর্মসূচিতে। কর্মস্থলে শ্রমিক-কর্মচারিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ সকল কারখানা বন্ধের দাবি জানান তারা।

বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রানা প্লাজায় দোষীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন তারা। সারাজীবনের আয় বাবদ প্রতি নিহত শ্রমিক পরিবারকে ৪৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি তাদের।

শ্রম আইনকে শ্রমিক বান্ধবরূপে দেখতে চান শ্রমিকরা, প্রত্যেকে নিয়োগপত্র চান, ইপিজেড, গার্মেন্টসহ প্রত্যেক কারখানায় শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার অধিকার, আট ঘণ্টা কর্মদিবসে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে মজুরি নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক ওভারটাইম বন্ধ করা, সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছয়মাস সবেতন ছুটি, সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে জাতীয় মজুরি কমিশন গঠনের দাবি তাদের।

এছাড়া শ্রমিক এলাকায় পূর্ণ রেশনি চালু ও মূল্যবৃদ্ধি রোধ, শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যগত বাসস্থান নির্মাণে জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালা তৈরি, বস্তি উচ্ছেদ বন্ধ করা, সকল বস্তিতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা, হকারসহ ভাসমান শ্রমজীবী জনগণের সারা বছরের কাজের ব্যবস্থা করা, হকার উচ্ছেদ বন্ধ করা, গার্মেন্টসহ প্রত্যেক কারখানায় এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দেয়া ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান, শিল্প পুলিশ-শিল্প গোয়েন্দা বাতিল করা, সভা-সমাবেশে পুলিশি বাধা বন্ধ করা, সাম্রাজ্যবাদী ভারত-আমেরিকার সঙ্গে সম্পাদিত সকল গোপন চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ ও বাতিল করাসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে তাদের এসব কর্মসূচি।

এর মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন নৌ-মন্ত্রী ও শ্রমিকনেতা শাজাহান খান।

একযোগে নিজেদের দাবিতে একাট্টা হয় বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারি ফেডারেশন, ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ), জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, সোয়ারীঘাট মৎস্য আড়ৎ শ্রমিক ইউনিয়ন, হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ- বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারি ফেডারেশন, বাংলাদেশ অভিবাসী অধিকার ফোরাম, তিতাস গ্যাস কর্মচারি ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সাধারণ শ্রমিক ইউনিয়ন, শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদ, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি ফোরাম, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, পোশাক গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ নারী লেখক পরিষদ, অ্যাপেক্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, গ্রীনবাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, ঢাকা জেলা হালকা যানবাহন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোট, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনসহ আরও কিছু সংগঠন কর্মসূচি পালন করে।

প্রেসক্লাবের দোতলায় কনফারেন্স লাউঞ্জে পরামর্শ সভা আয়োজন করে ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। এতে অভিবাসী শ্রমিকদের নানা কষ্টের কথা তুলে ধরে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপের দাবি জানান।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এখন নারী শ্রমিকদের চাহিদা অনেক বেড়েছে। কিন্তু আমাদের নারী শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে ভালো থাকছেন না। নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকেই মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছেন।

নারীদের আবাসের জন্য বিদেশে ক্যাম্প চালুর দাবি জানান কেউ কেউ, আইএলও’র গৃহশ্রমিক সনদ ১৮৯ অনুস্বাক্ষর চান তারা।

হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর