অর্থ ও বাণিজ্য

সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি মারছে ডাগর আম

৪৫নিজস্ব প্রতিবেদক,  হটনিউজ২৪বিডি.কম ২ মে : সবুজ পাতায় রোদগুলো চিকচিক করছে। পাতার ফাঁক দিয়ে উকি মারছে ডাগর আম। কোনো গাছে আবার পাতার পরিবর্তে শুধুই সবুজ আমের সমারোহ। রাস্তা, জমি অথবা বাড়ির আঙ্গিনা এমন কোথাও নেই যে, দেখা পাওয়া যাবে না আমের।

উত্তরবঙ্গের রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট ও পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈশাখের কড়া রোদে সহ্য করে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ছোট, বড় ও মাঝারি বয়সী আম গাছগুলো। কমবেশি সব গাছেই সবুজ রঙের আম। গাছের যত্ন ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

মাঝে মধ্যে হালকা বাতাসের দুলুনিতে দোলও খাচ্ছে আমগুলো। এসব আম বড় হওয়ার সঙ্গে চাষিদের স্বপ্নও বড় হতে শুরু করেছে। আর কিছুদিন পরেই যে বাজারে উঠবে কয়েক মাসের পরিশ্রমের ফল।

চারঘাট উপজেলার সফল আমচাষি আবদুল হাকিম জানান, আমের ঐতিহ্যগত দিক দিযে বাঘা, চারঘাটসহ আশপাশের এলাকা সব সময়ই প্রসিদ্ধ। এবারও এ অঞ্চলে বেশ ভালো আম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

এ চাষি জানান, খরার কারণে এখনো বড় ধরনের ক্ষতি বা ঝড়ে আম পড়া শুরু হয়নি। তবে এভাবে খরা থাকলে নেতিবাচক প্রভাবও পড়ার শঙ্কা রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় সামান্য আম ঝরে পড়েছে। যা প্রতিবারই যায়।

একই উপজেলার পূর্ব মেরামতপুর এলাকার আমচাষি মিজানুর রহমান গাছে পোকার আক্রমণ দূর করতে ওষুধ স্প্রে করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমের মুকুল আসা থেকে শুরু করে যত্ন নিয়ে যাচ্ছি। এখন ভালোভাবে বাজারে বিক্রি করতে পারলেই খুশি। তবে আবহাওয়া নিয়ে একটু দুশ্চিন্তা রয়েছে’।

নিজে আম চাষের পাশাপাশি কিছু গাছ কিনে ব্যবসাও করেন তিনি। গত কয়েক বছরে বেশ ভালো আয়ও হয়েছে তার।

মিজানুর বলেন, আমকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।

এলাকাবাসী ও চাষিদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, অনেকেই মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে এ অঞ্চলে ব্যবসা শুরু করেন। তারা মনে করেন, উন্নত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ সফল হতে বেশি সহায়তা করে।

বিদেশে রফতানির উদ্দেশ্যে অনেকেই এখন চুক্তিভিত্তিক আম চাষ করছেন। সেক্ষেত্রে আলাদা যত্ন ও কীটনাশক কম ব্যবহার করছেন চাষিরা। এতে সহায়তা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থা।

পুঠিয়া উপজেলার আমচাষি ফরিদুল ইসলাম বলেন, গত ৬ এপ্রিল বৃষ্টি হওয়ার পর এলাকায় আর বৃষ্টি হয়নি। এ কারণে আমের গোড়া কিছুটা হালকা হয়ে আছে। কি জানি বড় ঝড় হলে কী হয়!

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বেশ ভালো লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।

চাষিদের মাঝে বৃষ্টির জন্য বেশ হাহাকারও দেখা গেছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অনেকের আমের গুটিও হাল্কা ঝরে গেছে। তবে এখনো বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার শিকার হননি চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজশাহী জেলা উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। খরার কারণে কিছু আম ঝরেও গেছে। তবে এখনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর