অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

রমজানে মাছ-সবজির বাজার চড়া

abzar-bg20130709201418হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র রমজান মাস। অন্যান্যবারের অভিজ্ঞতায় সাধারণত এ মাসটিকে কেন্দ্র করে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও এবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার উল্টোটা হয়েছে। রমজান উপলক্ষে কমে গেছে বেশ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। তবে এক্ষেত্রে একদমই ব্যতিক্রম সবজি ও মাছ— যথাক্রমে এ দুয়ের দাম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

মিরপুর কাঁচাবাজারে রমজান উপলক্ষে আগাম বাজার করতে আসা মিরপুর ডেন্টাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব সহকারী আব্দুল হান্নান হটনিউজকে বলেন, “ রমজান উপলক্ষে মাছ ও সবজি ছাড়া অধিকাংশ পণ্যের দাম কমেছে। সপ্তাহ খানেক আগে টমেটে ও কাঁচা মরিচের দাম ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা তা এখন বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে।”

ডাল, সয়াবিন তেল, মসলা, চাল, লবন, চিনি, মাংস, ডিমের দাম স্থিতিশীল ও কোনও কোনও ক্ষেত্রে কমে যাওয়ার বিপরীতে পাশাপাশি টমেটো, কাঁচা, মরিচ, শসা , বেগুন ও পেয়াজের দাম হয়েছে আকাশচুম্বি।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর, কাওরানবাজার, নিউমার্কেট, মহাখালি ও বসুন্ধরা কাঁচা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

মিরপুর কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১২০, কাঁচা মরিচ ১৩০ থেকে ১৪০, শসা ৫০ , বরবটি ৬০, প্রতিটি লাউ ৫০, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫, গাজর ৫০, উস্তে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম বাড়া প্রসঙ্গে সবজি বিক্রেতা সাহারুল বলেন, “রমজানের আগে সবজির দাম বাড়ে কারণ আমদানির তুলনায় চাহিদা বেশি থাকে। তবে ১০ রোজার পর এ দাম কমে যাবে।”

এদিকে রমজানের বাজারেও ডাল, সয়াবিন তেল, মসলা, চাল, লবণ, চিনি, মাংস ও ডিমের দাম স্থীতিশীল রয়েছে। কিছু কিছু পণ্যের দাম কমে গেছে বলেও বাজার পরিদর্শন করে দেখা যায়। প্রতিলিটার সয়াবিন তেলের দাম কমে লিটার প্রতি ১৩৩ টাকা, ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৬৫০ টাকা, প্রতিলিটার সয়াবিন তেল (লুজ) ১০৭ থেকে ১০৯, পাম অয়েল (লুজ) ৭২ থেকে ৭৩, সুপার পাম অয়েল (লুজ) ৭৫ থেকে ৭৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর কাঁচা বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা গেল কমেছে আটা ও ময়দার দাম। দু’কেজি প্যাকেটজাত ময়দার দাম ৭৪ টাকা ও আটা বিক্রি হচ্ছে ৯৪ টাকা দরে। স্থিতিশীল রয়েছে ডালের দাম। কমেছে ছোলা ও মশুর ডালের দাম। প্রতিকেজি ছোলা ৬০ থেকে ৬৫, ছোলা বুট ৭৬, খেসারি ৫৫, দেশি মশুরডাল ১০৫ থেকে ১১৫, চিকন দানা নেপালি মশুরডাল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, ভারতীয় মোটা মশুরডাল ৮০, মুগ ডাল মানভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি ও ভারতীয় আমদানি নির্ভর— দু’ধরনের পেঁয়াজেরই দাম বেড়েছে। নগরীর কাঁচা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫ ও বাছাইকৃত দেশি পেয়াজ ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ভারতীয় আমদানি নির্ভর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। তবে স্থীতিশীল আছে রসুনের দাম। প্রতিকেজি চায়না রসুন ৮০ ও দেশি রসুন ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে আলু ও আদার দাম। প্রতিকেজি চায়না আদা ১০০ ও আলু ১৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থীতিশীল আছে মাংস ও ডিমের দাম। প্রতিকেজি গরুর মাংস সিটি কর্পোরেশনের বেঁধে দেওয়া ২৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৬৫ থেকে ১৭০, মহিষ ২৬০, খাসি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগির ডিম ৩২ টাকা হালি দরে, এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা দরে।

কমেছে চিনির দাম। প্রতিকেজি চিনি ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বাজারগুলোতে।

তবে মাছের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন রমজানে চাহিদার তুলনায় মাছের সরবরাহ কম, আর সেই জন্যই বেড়েছে মাছের দাম। মহাখালি কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, কই মাছ ২০০-২২০, পাঙ্গাস প্রকারভেদে ১৪০ থেকে ১৫০, কাতলা প্রকারভেদে ৩২০ থেকে ৪২০, সরপুটি ২০০, সিলভার ১৫০, মাঝারি রুই ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মহাখালীর মাছ বিক্রেতা জাফর ভাণ্ডারি মাছের দাম বাড়া প্রসঙ্গে বলেন, “রমজানে মাছের চাহিদার তুলনায় বাজারে কম সরবরাহ হয়। তাছাড়া বর্তমানে নদি নালায় পানি কম যে কারণে মাছের দাম বাড়তি।”

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ(টিসিব)’র তথ্য অনুযায়ী চালের দাম স্থীতিশীল আছে। প্রতিকেজি সাধারণ মানের নাজির ও মিনিকেট ৩৬ থেকে ৪৬, উত্তম মানের নাজির ও মিনিকেট ৪৬ থেকে ৫০, সাধারণ মানের পাইজাম ও লতা ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মোটা চায়না ইরি ও স্বার্ণা ৩২ থেকে ৩৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কমেছে মসলার দামও। প্রতিকেজি জিরা ৩৮০ থেকে ৪৫০, ধনে ৬০ থেকে ৬৫, তেজপাতা ১৬০ থেকে ১৮০, লবঙ্গ ১৪’শ থেকে ১৫’শ, এলাচ ১২’শ থেকে ১৫’শ, ও দারচিনি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বেশ সপ্তাহের ধরেই শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা দরে।

রমজানে যেন নিত্যপণ্যে বাজারে কোনো প্রভাব না পড়ে সেই লক্ষ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা আরো জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। মৎস্য অধিদপ্তর, ক্যাব, বাজার কর্মকর্তা, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশ এ অভিযানে সহায়তা প্রদান করছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল বাতেন মিঞা হটনিউজকে বলেন, “রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন আমরা ঢাকাসহ সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করবো। নির্ধারিত মূল্যের অধিক দাম রাখলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা জরিমানা আরোপ ও আদায় করছি। শুধু পণ্যের দাম বেশি রাখাই নয়, আমরা পণের পরিমাণ নির্ধারণের যন্ত্রপাতিও পরীক্ষা করছি। যেন ক্রেতাকে ওজনে কম না দেওয়া হয়। আমাদের বিশ্বাস এই অব্যাহত অভিযানের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে পারবো।”