জাতীয় রাজনীতি

পদ্মা প্রকল্পে ২৪০ কোটি ডলার দিতে চায় চীন

Obaidul-kader-300x200নিজস্ব প্রতিবেদক হটনিউজ টোয়েন্টিফোরবিডি. কম:জটিলতার আবর্তে থাকা পদ্মা সেতু নির্মাণে ২৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় চীন, যা প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ। পদ্মা সেতু: ১৯৫ কোটি ডলারের প্রস্তাব চীনের

পদ্মার দরপত্রে সুযোগ পাবে চার প্রতিষ্ঠানপদ্মায় ‘পাকে’ ফিকে সেতুর স্বপ্ন চীনের বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার এক আলোচনার পর যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন।তিনি বলেছেন, চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান চাইনিজ পলি টেকনোলজি কর্পোরেশন এই বিষয়ে চলতি মাসেই সমঝোতা স্মারক সই করতে চায়।চীনের বিওওটি পদ্ধতিতে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে টানাপোড়েনে বিশ্ব ব্যাংককে ‘না’ বলে দিয়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বানের পর চীনের প্রস্তাবের বিষয়টি প্রকাশ পেল।২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে টানাপোড়েনে সরকার ঋণদাতা সংস্থাটির অর্থ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।এরপর নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে গত মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই সেতু ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম।ওবায়দুল কাদের বলেন, “জি টু জি (দুই সরকারের মধ্যে) ভিত্তিতে এ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে এ কোম্পানি। প্রস্তাবটি আগেই দেয়া হয়েছে, আজ শুরু আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলা হয়েছে।”সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে পলি টেকনোলজি ও এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী।বিওওটি (বিল্ড, ওউন, অপারেশন, ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। এর অর্থ হলো সেতু নির্মাণের পর অর্থ তুলে নেয়া পর্যন্ত তাদের কর্তৃত্বে থাকবে এই সেতু। অর্থ তুলে নেয়ার পর তা তারা হস্তান্তর করবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, “চীনের প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের চেয়ে খারাপ কিছু হবে না।”

চীনের প্রস্তাব গ্রহণ করলে সেতু তৈরিতে অর্থ দিতে গিয়ে সরকারের ওপর যে চাপ পড়বে, তা লাঘব হবে বলে মনে করছেন তিনি।

“এই প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ হলে ভালো হয়।”পদ্মা সেতুতে নিজস্ব অর্থের যোগান সরকারের উন্নয়নমূলক অন্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে ঠেলে দেবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন।সচিবালয়ে যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেনন পলি টেকনোলজির ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ঝাও লিংঝি, প্রকল্প ব্যবস্থাপক জিয়াং ইং, এক্সিম ব্যাংকের সহকারী প্রেসিডেন্ট ইয়াং বাইয়ো ও বিজনেস ম্যানেজার লি ওয়াইডিং।মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামোগত খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। এর মধ্যে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণ প্রস্তাবটি উল্লেখযোগ্য।

“এটি করতে হলে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে।তবে সরকারের মেয়াদ থাকতেই আমরা কিছু কাজ এগিয়ে রাখতে চাই,” বলেন তিনি।