ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি সারাদেশ

মাহমুদুর রহমান শ্যোন অ্যারেস্ট হচ্ছেন

Mahmudur_Rahman1460903186 নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা পরিকল্পনার অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম হটনিউজ২৪বিডি.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সাংবাদিক শফিক রেহমান এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। মাহমুদুর রহমানসহ আরো কয়েকজন বাংলাদেশি এই ষড়যন্ত্রের ছক আঁকেন। এজন্য সাংবাদিক শফিক রেহমান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দুজন এফবিআই কর্মকর্তার সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেন।

মনিরুল ইসলাম জানান, যেহেতু মাহমুদুর রহমান আগেই একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন, সেহেতু সোমবার যেকোনো সময় তিনি শ্যোন অ্যারেস্ট হবেন। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হতে পারে। এজন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রেরর পররাষ্ট্রদপ্তর থেকে এ মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র বাংলাদেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে আসে। এতে শফিক রেহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) অফিসে বসে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) দুজন এজেন্টের কাছ থেকে ১ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। আর সেটি বাস্তবায়ন করতে বিএনপি ও জোটের প্রভাবশালী নেতারা মোটা অঙ্কের অর্থ সরবরাহ করেছিলেন।

জয়কে অপহরণ ও হত্যা করার জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নেতারা জাসাস নেতা মামুনের ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রিজভি আহমেদের সঙ্গে ৪০ হাজার ডলারের চুক্তি করেন। চুক্তির শর্ত মোতাবেক রিজভি ৩০ হাজার মার্কিন ডলার অগ্রিম গ্রহণ করেন।

নয়াপল্টনের জাসাস অফিস ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বসে জয়কে অপহরণের পর হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। ওই সময় একটি জিডি করা হয়। জিডির তদন্ত করতে গিয়ে জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে।

ঘটনার প্রথম দিকের কথা উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জয়কে অপহরণের পর হত্যার ষড়যন্ত্র হয়। জাসাস নেতা মামুনের ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রিজভি আহমেদ এফবিআইয়ের এক প্রাক্তন কর্মকর্তা রবার্ট লাস্টিক ও এক বর্তমান কর্মকর্তা জোহন্স থ্যালারের মাধ্যমে এফবিআই থেকে জয় সম্পর্কে তথ্য বের করে আনে। এফবিআইয়ের তদন্তে বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এফবিআই কর্মকর্তা থ্যালারের ৪২ মাস ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রিজভি আহমেদের আড়াই বছরের জেল হয়। তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রে জেল খাটছেন।

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের কোনো কোনো নেতা ও জোটের নেতারা মিলে বিপুল অঙ্কের অর্থ সরবরাহ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আরেক বিএনপি নেতা মিল্টন তার বন্ধু রিজভির সঙ্গে দেখা করেন এবং এফবিআইয়ের সরবরাহকৃত জয়ের তথ্যউপাত্ত নিয়ে মাহমুদুর রহমানকে ফেডেক্স কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশে পাঠান।

ষড়যন্ত্রকারী জাসাস নেতা মামুন, তিনিও দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাকেও গোয়েন্দারা ‍খুঁজছে। এ ছাড়া এই মামলার অজ্ঞাতনামা অন্য ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের ভেতরেই আছেন।

মামুনকে ধরতে এফবিআইয়ের সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে। এজন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত ও মামলার তদারক কর্মকর্তা মাশরুকুর রহমান খালেদকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে।