ঢাকা সারাদেশ

কৌশল হিসেবে বাসায় প্রবেশ করে পুলিশ

Shafik-Rehman-House-ed1460794614নিজস্ব প্রতিবেদক : সিনিয়র সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সদস্যরা কৌশল হিসেবে বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয়ে বাসায় প্রবেশ করেন। এরপর তারা গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান- এ কথা জানিয়েছেন শফিক রেহমানের বাসার বাবুর্চি আলী আজম।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইস্কাটনের ১৫ নম্বর বাসায় গেলে আলী আজম এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ মাইক্রোবাসে করে তিনজন লোক বাসার নিচে নামেন। বাসার নিচ থেকে দারোয়ান মতিন মোল্লা জানান বৈশাখী টিভির সাংবাদিক আসছে। স্যারের (শফিক রেহমান) ইন্টারভিউ নেবে। ওরা নাকি এর আগেও এসেছিলেন। এ কথা শোনার পর স্যার সাংবাদিকদের নাশতা দেওয়ার কথা বলে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওপরে ওঠেন।

কিছুক্ষণ পর ওই তিনজন ওপরে আসেন। স্যারের একটু দেরি হবে- এ কথা তাদের বলাতে একজন ওপরে গিয়ে স্যারকে নামিয়ে আনেন। না খেয়ে কোথায় যাচ্ছেন- এ কথা জিজ্ঞেস করতেই একজন এসে আমাকে ঘুষি মেরে বলেন, ‘আমরা বৈশাখী টিভির রিপোর্টার না। আমরা ডিবির লোক।’ এরপর তারা স্যারকে নিয়ে চলে যান।

বাসার গৃহকর্মী হনুফা বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে স্যার ও ম্যাডাম ‍দুজনই অসুস্থ। স্যারের হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ রয়েছে। ম্যাডামও জ্বর-বমির কারণে শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল।

হনুফা বেগম বলেন, ‘১৮ বছর ধরে এই বাসায় কাজ করতেছি। আগে ছিলাম বারডেমে। এ ভাবে ভুয়া পরিচয়ে ডিবি পুলিশ আইসা স্যারকে লইয়া গেল। এতে ভয় পাইয়া গেছি।’ হনুফা বেগম জানান, বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে ১৫ ইস্কাটনের বাসা থেকে ম্যাডাম (তালেয়া রেহমান) স্যারের সকালের খাবার ও ওষুধপত্র নিয়ে মিন্টো রোডে ডিবি অফিসে গেছেন।

পরে পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টার পরিকল্পনার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে মামলাটি করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান।

এদিকে শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রহমান খাবার ও ওষুধপত্র নিয়ে গোয়েন্দা কার্যালয়ে গেলেও শফিক রেহমানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পুলিশ ওষুধপত্র ও খাবার নিয়েছে।