মিডিয়া

প্রজন্মের অনুপ্রেরণা ছিলেন-থাকবেন আবু হাসান শাহীন

১০.নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ১২ এপ্রিল : বিশিষ্ট শিশু সংগঠক, শিশু-কিশোর গ্রন্থের প্রকাশক ও ছোটদের পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক আবু হাসান শাহীনের স্মরণসভায় তার সহকর্মী, বন্ধু ও স্বজনেরা বলেছেন, সৃজনশীলতা, মেধা ও মনন দিয়ে অল্প বয়সেই দেশ-জাতির কল্যাণে বহুমুখী কাজ করে গেছেন তিনি।

শাহীনের কর্ম জীবোদ্দশায় যেমন শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে, তেমনি অনাগত কাল তিনি সবার মাঝে বেঁচে থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।

আবু হাসান শাহীন ছিলেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক। তার অকাল প্রয়াণে সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টন মৈত্রী মিলনায়তনে স্মরণসভাটির আয়োজন করে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।

স্মরণসভায় আলোচকরা প্রয়াত শাহীনের কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ এবং আলোচনা করে আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলে অসাম্প্রদায়িক সুখী-সুন্দর বাংলাদেশ সৃজন এবং শিশু-কিশোর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদান ভুলবার নয়।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ দুই যুগের খেলাঘর সংগঠক আবু হাসান শাহীনের মৃত্যুতে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা পূরণ হওয়ার নয়। শোককে শক্তিতে পরিণত করে শাহীনের ত্যাগ ও আদর্শিক কর্মকাণ্ডের পথ বেয়ে আরও এগিয়ে চলারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন খেলাঘর পরিবারের সদস্যরা।

খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা পান্না কায়সারের সভাপতিত্বে শোকসভায় বক্তব্য দেন ছড়াকার আলম তালুকদার, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, প্রণয় সাহা, নাজমুল আহসান অপু, অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ, হান্নান চৌধুরী ও হাসান তারেক, সাধারণ সম্পাদক আবুল ফারাহ্ পলাশ, খেলাঘর ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শফিকুর রহমান শহীদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মামুন মোরশেদ ও প্রকৌশলী অমল নাগ, ঢাকা মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুল ইসলাম অপু, অঙ্গন খেলাঘর আসরের সভাপতি নাদিয়া রহমান মেঘলা প্রমুখ।

স্মৃতিচারণকালে তার বাবা হাজী মো. তাছের আহমেদ মোল্লা ছোটবেলা থেকে বড় ছেলে শাহীনের সৃজনশীলতা, মেধা ও দক্ষতা-যোগ্যতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শাহীন সকালে কখন ঘর থেকে বের হয়ে যেতো আর রাতে কখন ফিরতো টের পেতাম না। তার মা শুধু অপেক্ষা করতেন, কিন্তু তার দেখা মিলতো না। সারাক্ষণ খেলাঘর আর কাজ নিয়ে মেতে থাকতো।

‘এখন শাহীনের ছেলেকে নিয়ে আমার যতো টেনশন। ও যাওয়ার পর আমিও স্মৃতিহারা হয়ে যাচ্ছি। দুর্বল হয়ে যাচ্ছি। ওর ছেলেটাকে কিভাবে মানুষ করি? পড়ালেখা করাই, সেটাই চিন্তার’।

অধ্যাপিকা পান্না কায়সার বলেন, আমি গভীর শোক নিয়ে এসেছি। তবে শোক প্রকাশ করতে আসিনি। শোককে শক্তিতে পরিণত করতে এসেছি।

শিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মনে মনে শপথ নাও, আমরা সবাই শাহীনের মতো হবো। সবাই যেন হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকি। কর্মই মানুষকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে।

‘শাহীন অল্প বয়সে সবার প্রিয়ভাজন হয়েছে। সততা-নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক দক্ষতা ছিলো তার গুণ। ক্ষমা করার গুণও ছিলো তার। ভালো ব্যবহারও তার গুণ ছিলো’।

পান্না কায়সার বলেন, শাহীন আমাদের মাঝে আছে, এখানে আছে। এটা আমার উপলব্ধি। কারণ, মানুষের আত্মা কখনো মরে না। যতোদিন খেলাঘর থাকবে ততোদিন শাহীনের কাজ আমাদের উৎসাহ দিয়ে যাবে।

নুরুর রহমান সেলিম বলেন, আমরা খেলাঘর পরিবার শাহীনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখবো। কারণ, তার আড়াই বছরের সন্তান আছে। তাকে মানুষের মতে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

স্মরণসভার শুরুতে খেলাঘরের শিশু-কিশোর ভাই-বোনেরা আবু হাসান শাহীনকে নিবেদন করে ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি পরিবেশন করে।

১৯৯২ সাল থেকে কোনাপাড়া অঙ্গন খেলাঘর আসর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আবু হাসান শাহীনের খেলাঘর আন্দোলন শুরু। তিনি সাংবাদিকতা করেছেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এবং দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক দিনের শেষে ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায়, সম্পাদনা করতেন ‘ছোটদের পত্রিকা’। তিনি ছিলেন শিশুতোষ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ছোটদের মেলা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এ আলী আহমদ নান্তু।
হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর