অর্থ ও বাণিজ্য

হিমাগার শিল্পের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রেয়াতের দাবি

১০.অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ৯ এপ্রিল : আগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিভিত্তিক হিমাগার শিল্পের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রেয়াত এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ)।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে চিঠি দিয়েছেন বিসিএসএ সভাপতি প্রকৌশলী মো. জসীম উদ্দীন।

বিসিএসএ সূত্রে জানা গেছে, কৃষিভিত্তিক হিমাগার শিল্প পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ অন্যতম আবশ্যকীয় উপকরণ। বিদ্যুৎ ছাড়া হিমাগারের মেশিনারী পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আলু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পিডিবি, ডিপিডিসি ও আরইবি’র আওতাভুক্ত প্রতিটি হিমাগারে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় এবং বিদ্যুতের অভাবে ও লো-ভোল্টেজের কারণে বেশি দামে ডিজেল কিনে জেনারেটরের মাধ্যমে হিমাগার সচল রাখতে হয়।

সূত্র জানায়, অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনক্রমে গত বছর ৫ ফেব্রুয়ারি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আলু উপদেষ্টা বোর্ডের বৈঠকে সব হিমাগারের জন্য বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ রেয়াত দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়।

সূত্র জানায়, অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনক্রমে গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কৃষিভিত্তিক শিল্পকে বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ রেয়াত দেওয়ার আশ্বাস ও সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে এই রেয়াতের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের বিবেচনাধীন আছে।

সূত্র জানায়, হিমাগার শিল্প বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত এবং আলু একটি দ্বিতীয় প্রধান অর্থকরী ফসল। কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও পরিচালনার জন্য মালিকরা ব্যাংক ও ঋণদানকারী সংস্থা থেকে উচ্চসুদে প্রকল্প ঋণ ও চলতি মূলধন ঋণ নিয়ে থাকেন। যেহেতু হিমাগার শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং আলু রপ্তানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বিশেষভাবে অবদান রাখছে, তাই জাতীয় বাজেটে এই শিল্পের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়ে সিঙ্গেল ডিজিট অর্থাৎ ৫ শতাংশ ধার্য করার আবেদন জানানো হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে সূত্র জানায়, প্রতিবেশী দেশ ভারতে সরকার খাদ্য প্রক্রিয়াকরনের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ অনুদান দিয়ে থাকে এবং কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য সরাসরি ১০ শতাংশ অনুদান দিয়ে থাকে। এছাড়া ভারতের ন্যাশনাল হার্টিকালচার বোর্ড হিমাগার স্থাপনের জন্য ২৫ শতাংশ ভর্তুকি দেয় এবং প্লাস্টিক ক্যারেট ও রেফ্রিজারেটেড ভ্যান কেনার জন্য ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে ফুডপার্ক নির্মাণের ক্ষেত্রেও ভারত সরকার ৪০ মিলিয়ন ভারতীয় রুপী অনুদান দিয়ে থাকে। এ অবস্থায় ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশর আপামর ও গরীব কৃষকদের উন্নয়নের স্বার্থে এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিভিত্তিক হিমাগার শিল্পের সার্বিক স্বার্থে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কৃষি শিল্পের মত এ শিল্পের বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ রেয়াত ও ব্যাংক ঋণে সুদের হার ৫ শতাংশ করার আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।
হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর