চট্টগ্রাম চাঁদপুর জাতীয় শিক্ষাঙ্গন

নানা সমস্যায় জর্জরিত চাঁদপুর পলিটেকনিক্যাল ইনষ্টিটিউট

3b06af4d-a7c8-4ed3-88de-d0d616b84b31 শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর: চাঁদপুরের কচুয়ায় অবস্থিত চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-কর্মচারী ও ক্র্যাফট ইন্সট্রাক্টর (টিআর-সপ) স্বল্পতা, ছাত্রী হোস্টেল এবং বিদ্যুৎ , গ্যাস সংযোগ না থাকাসহ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষাক্ষেত্রে আলোকবর্তিকা হয়ে উঠলেও দিনের পর দিন বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে এর শিক্ষা কার্যক্রম। সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া এলাকায় ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাসনের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ইনস্টিটিউটটির যাত্রাকালীন ৯৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরুহলেও এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ হাজার ১শ’ ৯২ জন। নিয়মানুসারে ৪টি ডিপার্টমেন্টে ১ হাজার ৬শ’ ৩২ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর উল্লেখিত সমস্যার কারণে বিভিন্ন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে বদলী হয়ে চলে যায়। ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষসহ ৭৮জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৫৮জন। এর মধ্যেও ১১ জন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে কর্মরত । দীর্ঘ প্রায় ১ যুগ আগে ২একর জমি অধিগ্রহন করে ইন্সটিটিউটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অথচ প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের ২/৩বছর যেতে না যেতেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে ও প্লাষ্টার খসে পড়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শৌচাগার , কমনরুম, শ্রেণীকক্ষ এতই নাজুক অবস্থা, যা দেখে মনে হয়নি এটি একটি বৃহৎ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই অধ্যক্ষের কক্ষ, লাইব্রেরি, শিক্ষকদের রুম, অফিস কক্ষসমূহ ও শ্রেণী কক্ষে পানি প্রবেশ করার ফলে পাঠদানসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যঘাত ঘটছে। এছাড়াও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই ভবন বেস্টিত খালি জায়গাটিতে হাঁটু পানি জমে যায়। অধ্যক্ষ ভবন ও সিকিউরিটি গার্ড ভবনটি ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ ভবনের বিভিন্ন দিক দিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ছাদে ব্যবহৃত নিচের অংশে সরাসরি রড ভেসে উঠায় ও বৈদ্যুতিক তারসহ সরঞ্জামাদি ত্রুটিপূর্ণ থাকয় দুর্ঘটনার ঝুকি রয়েছে। ১৬৩ জন ছাত্রীর আসন থাকলেও ছাত্রীনিবাস না থাকায় মাত্র ৬০জন ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে। প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই চাঁদপুর জেলার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক আশা নিয়ে এ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও নানা সমস্যা বিদ্যমান থাকায় শিক্ষার্থীরা এ প্রতিষ্ঠানে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে নিতে আগ্রহী হচ্ছে না। অভিভাবকরাও এসব অসুবিধার কারণে সন্তানদের শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখিত সমস্যাসমূহ সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।