জাতীয় রংপুর

ঠাকুরগাঁও শহরে আকস্মিক বন্যার পানি ঘরবাড়ি ছাড়ছে লোকজন

Australian-flood02-bg20110107142359হটনিউজ ঠাকুরগাঁও অফিস ও হুমায়ুন কবীর বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) থেকে: হঠাৎ করেই বাড়ছে ঠাকুরগাঁও শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত টাঙ্গন নদী। শহর রক্ষা বাধে দেখা দিয়েছে ফাটল এবং বাধের ওপর দিয়ে পানি প্রবেশ করছে শহরে। এতে করে রাত ১০ টা পর্যন্ত পৌর শহরের টিকিয়া পাড়া, ডিসি বসতি, হঠাৎ পাড়া, খালপাড়ার প্রায় সব বাড়িঘরই তলিয়ে গেছে। লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে শহরের শিল্পকলা একাডেমি, সিএম স্কুল সহ বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

টিকিয়া পাড়ার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম, খালপাড়ার বাসিন্দা আঃ রব জানান, সন্ধার দিকে উজান থেকে পানি এসে টাঙ্গন নদীর পানি বাড়তে থাকে। বিষয়টি অন্যান্য বছরের বর্ষার মতই স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলেন স্থানীয়রা। হঠাৎ করেই রাত ৯ টার দিকে টাঙ্গন নদীর শহর রক্ষা বাধে ভাঙন দেখা দেয়। উজান থেকে আসা পানি মূল শহরের পাশেই টাঙ্গন ব্রীজ দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমান যেতে না পেরে বাধ উপচিয়ে পানি শহরে ঢুকে পড়ে। লোকজন তড়িঘড়ি করে যে যেখানে পারছেন বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। টাঙ্গন নদীর তীরে অবস্থিত শিল্পকলা একাডমি ও সিএম আইয়ুব উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন শতাধিক পরিবার। রাত ১০ টার দিকে টিকিয়া পাড়া, ডিসি বসতি, হঠাৎ পাড়া, খালপাড়ায় প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে। এতে করে ওইসব এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত (রাত ১০ টা ৩০ মিঃ) নদীর পানি বাড়ছিল।

ঠাকুরগাঁও পৌর মেয়র এস,এম মঈন জানান, খবর পেয়ইে তিনি বন্যা কবলিত এলাকায় এসেছেন। শহরের ওই মহল্লাগুলোর লোকজন যেন নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হঠাৎ করেই উজান থেকে আসা পানির ফলেই টাঙ্গন নদীর পানি বেড়েছে এবং পানি আরো বেড়েই চলেছে। নদীর আশপাশের মহল্লাগুলোর আরো বাড়িঘর রাতের মধ্যে তলিয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশংকা করছেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন এবং কোন দুর্ঘটনা যেন না ঘটে এ কারনে এলাকার লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে এবং লোকজনের দৃষ্টি এখন টাঙ্গন নদীর দিকে।

এদিকে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তীরনই নদীর পানি হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় বালিয়াঙ্গী উপজেলা শহরের সাথে হাসপাতাল ও থানা এলাকার মাঝখানের রাস্তার একাংশ ভেঙে গেছে। ব্রীজের মধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল। শত শত মানুষ ব্রীজটিকে রক্ষার্থে সন্ধা থেকেই সেখানে কাজ করছেন। স্থানীয়রা ইট, বালুর বস্তা ইত্যাদি দিয়ে ব্রীজ ও রাস্তা রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তীরনই নদীর পানি ব্রীজ উপচিয়ে রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির প্রচন্ড চাপে উপজেলার সংযোগ সড়কটির অদুরেই অপর একটি ব্রীজ ভাঙনের কবলে পড়েছে বলে জানান, বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান আসাদ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষক হুমায়ুন কবীর, রফিকুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম সহ অনেকেই। তারা বলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এ উপজেলা শহর এর আগে কখনো বন্যা কবলিত হয়নি। এবারই প্রথম বন্যার কবলে পড়লো বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শহর।