কৃষি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ভেজাল বীজে ৩০ তরমুজ চাষী সর্বশান্ত

৩৯.নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ১২ মার্চ : কুষ্টিয়ায় একটি নামী কোম্পানীর বীজ বপন করে বিপাকে পড়েছেন ৩০ জন তরমুজ চাষী। ওই বীজ রোপনের পর গাছ হলেও চার মাসেও বেশিরভাগ গাছে কোন ফল ধরেনি। কেউ জমি বর্গা নিয়ে আবার কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করে এখন সর্বশান্ত।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের ডাঙাপাড়া এলাকার কৃষকরা প্রায় ৪ মাস আগে সুপ্রীম সীড ও লাল তীরসহ দেশের বেশ কয়েকটি খ্যাতিমান বীজ কোম্পানীর স্থানীয় এজেন্টের কাছ থেকে চড়া দামে তরমুজ বীজ কিনে ৫০ বিঘা জমিতে বপন করেন। যথা সময়ে বীজ থেকে চারা গজিয়ে লতানো গাছে ক্ষেত ছেয়েছে। কিন্তু তরমুজ ফলনের সময় হয়ে গেলেও এখনও কোন গাছে তরমুজের দেখা মেলেনি।গাছগুলো পুরুষ ফুলে ছেয়ে গেলেও স্ত্রী ফুল আসছে না। দুই একটি গাছে একটি দুটি তরমুজ ধরলেও তা আকারে খুবই ছোট। বীজ কোম্পানীর পরামর্শ মত কৃষকরা সময় মত সার, কীটনাশক দিয়েও কোন ফল পাননি।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মধ্যে আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিঘা প্রতি ১০ হাজার টাকায় তিনি ৪ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে সুপ্রীম সিডস কোম্পানীর গ্লোরি জাতের তরমুজ বীজ বপন করেন। মৌসুম শেষ হতে চললেও একটি তরমুজও বিক্রি করতে পারেননি তিনি।
আব্দুল লতিফ নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তরমুজের আবাদ করেছিলাম। এখন ঋণের টাকা শোধ করব কি করে তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’ কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাকীতে সার কীটনাশক এনে ক্ষেতে দিয়েছিলাম। এখন সেই দোকানদার টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। এলাকা ছাড়া পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।’
কুষ্টিয়া কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কিংকর চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, বীজের গুনগত মান খারাপ হওয়ার কারণেই ক্ষেতে ফল আসেনি। তার দাবী এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব বীজ প্রত্যয়ন বিভাগের। তবে তার দপ্তরের কোন কর্মকর্তার এ ব্যাপারে কোন গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুপ্রীম সিডসের উপ-আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রতন মিয়া বলেন, সারাদেশের কৃষকরা তাদের তরমুজ বীজ বপন করেছে। তবে অন্য কোন জেলায় এ বীজ বপন করে কোন সমস্যা হয়নি। এরপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বীজের কারণে গাছে ফল না আসলে কৃষকদের ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর