জাতীয়

নাশকতা করতে জড়ো হয় হুজির ৬ সদস্য

৩২.নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ১৭ ফেব্রুয়ারি : রাজধানীতে আটক হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ছয় সদস্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করতে একত্রিত হয়েছিলো। তারা মুফতি হান্নান ও কারাবন্দি হুজি নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী হিসেবে সংগঠনকে একত্রিত করার কাজ করছিলো।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোতয়ালির জিন্দাবাজারের সিরাজ-উদ-দৌলা পার্ক ও উত্তরা এলাকা থেকে ওই ছয়জনকে ‍আটকের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কাউন্টার অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যদের হাতে আটক এই ছয়জন হলেন- নিষিদ্ধঘোষিত হুজির কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক কমান্ডার সাজ্জাদুল আলম ওরফে মুফতি, মেজবাউর রহমান ওরফে প্রদীপ, বাশার, আশরাফ, আজিজ ওরফে বাবু, শফিক ওরফে পলাশ ওরফে বিজয়। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই, নোট, লিফলেটসহ একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, সংগঠনটি বিভিন্ন প্রগতিশীল ব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করছিলো। তাদের কাছ থেকে প্রগতিশীল বিভিন্ন লোকের তালিকাও পাওয়া গেছে। তবে, এর আগে তারা এমন কোনো নাশকতা করতে পারেনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আটক সবাই ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নানের অনুসারী। তারা বাইরে থেকে বিভিন্নভাবে হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। শিগগিরই রাজধানীতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

মনিরুল জানান, আটক সাজ্জাদুল আলম ওরফে মুফতি হুজির কুষ্টিয়া অঞ্চলের কমান্ডার। তিনি কুষ্টিয়া লাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি প্রাইভেট পড়িয়েও টাকা আয় করতেন। সংসার চালানোর পর অবশিষ্ট টাকা তিনি সংগঠনের কাজে ব্যয় করতেন।

এছাড়া, মেজবাউর রহমান প্রদীপ কুষ্টিয়া মিরপুর ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক। তিনিও টাকা-পয়সা সংগঠনের কাজে ব্যয় করতেন। আবুল বাশার মসজিদের ইমাম ও আশরাফ কম্পিউটার অপারেটর। এছাড়া, আজিজ ওরফে বাবু ও শফিক ওরফে পলাশ ওরফে বিজয় নামে দু’জন ঢাকায় গার্মেন্টসে উচ্চ বেতনে চাকরি করতেন। তারাও মোটা অংকের টাকা সংগঠনের কাজে ব্যয় করতেন।

ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, আটক এ ছয়জন মিলে সংগঠনের নতুন ও বেকার সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা করতেন। তাদের বিভিন্ন প্রকাশনা রয়েছে। সেগুলো বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করতেন। এসব টাকা দিয়ে জেলে থাকা নেতাদের মামলার খরচ যোগাতেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আটক ছয়জনের মধ্যে কয়েকজন বোমা তৈরিতেও পারদর্শী। আমরা ধারণা করছি, বিস্ফোরকদ্রব্য মজুদ করতে পারলেই নাশকতার কাজটি করে ফেলতে পারতো এরা।

এ কাজে বিদেশি ইন্ধন আছে কিনা জানতে চাইলে ডিএমপির এ অতিরিক্তি কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, বিদেশে থাকা কিছু সমর্থক তাদের অর্থ সহায়তা দিয়েছে। তবে ওই দাতারা জঙ্গি সংগঠন, নাকি কোনো ব্যক্তি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর