অপরাধ ঢাকা

মুক্তা হত্যা মামলায় ২০জনের সাক্ষ্য গ্রহণ

murder_graphicনেত্রকোনা প্রতিনিধি:আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার তদন্ত দল শনিবার নেত্রকোনার শহীদ বদিউজ্জামান মুক্তা হত্যা মামলার তদন্ত করেছে।তদন্তের দ্বিতীয় দিন শনিবার দিনভর তদন্ত কাজ চালান বলে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করেছেন তারা। শুক্রবার সাক্ষ্য নিয়েছিলেন ১২জনের।তিনি জানান, শনিবার মুক্তা হত্যা মামলার সংশ্লিষ্ট ঘটনাস্থল লক্ষীগঞ্জ ব্রীজ বধ্যভূমি, মোক্তারপাড়াব্রীজ,সাতপাই নদীর পাড় ও ত্রিমোহনী ব্রীজ বধ্যভূমি, শহরের মসজিদ কোয়াটার এলাকার সেসময়ের পাকসেনা ও তাদের দোসরদের টর্চার সেল, সাতপাই ভকেশনালইনষ্টিটিউটের পাক সেনা ক্যাম্প, বিরামপুর বাজার পরিদর্শন করেন তদন্ত দল। এসময় তদন্ত দল স্থানীংদের সাথে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরিদর্শন করা বধ্যভূমিগুলো, টর্চার সেলসহ সেনাক্যাম্পের আলোকচিত্র এবং স্ক্যাচ ম্যাপও সংগ্রহ করেন তারা।

রবিবারও তদন্ত কাজ চলবে বলে জানান শাহজাহান কবির।
তিন সদস্যের তদন্ত দলের অপর দুইজন হচ্ছেন, হরি দেবনাথ ও আতাউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ২৮ কার্তিক সকাল প্রায় ১১টার দিকে সদর উপজেলার নরেন্দ্র নগর গ্রামে শহীদ বদিউজ্জামান মুক্তাকে বিরামপুর বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায় রাজাকার, আলবদর ও আল সামস বাহিনীর লোকজন। পরে তারা নির্যাতন করে বদিউজ্জামান মুক্তাকে ভোরে জেলা শহরের মোক্তারপাড়া ব্রীজে গুলি করে হত্যা করে। এই অভিযোগ এনে ১২জনের নামোল্লেখসহ আরো অনেককে আসামি করে ২০১০সালের১২ আগষ্ট নেত্রকোনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-১ এ মামলা করেন মুক্তার ভাতিজা আলী রেজা কাঞ্চন। আদালত মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠায়। আসামীরা হচ্ছেন, মোক্তারপাড়া এলাকার মোঃ ওবায়দুল হক তাহের (৬০), আতাউর রহমান ননী (৫৯), শহীদ উল্লাহ পিন্টু (৬২), শহীদুর রহমান মাজু (৫৮), মোঃ ফজলুর রহমান ((৬৮),মোঃ ইউসুফ (৬১), মিষ্টার মিয়া (৫৮), মোঃ মানিক মিয়া (৫৮), আব্দুর রশিদ (৬০), ফরিদ আহম্মদ , কুড়পড় এলাকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন মীর (৮০) ও সদর উপজেলার মেদনী গ্রামের মোঃ আব্দুল ওয়াহাব খান রুনো । এর মধ্যে শহীদুর রহমান মাজু ও মোঃ ইউসুফ মামলা দায়েরের পর মারা গেছেন।