চট্টগ্রাম

লতিফকে চট্টগ্রামে চলাফেরা না করার পরামর্শ

৫.নিজস্ব প্রতিবেদক,  হটনিউজ২৪বিডি.কম ১৫ ফেব্রুয়ারি : বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃতির অভিযোগে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য এমএ লতিফকে চট্টগ্রামের মাটিতে চলাফেরা না করার পরামর্শ দিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

সোমবার বিকেল চারটায় নগরীর লালদীঘি মাঠে এমএ লতিফকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ পরামর্শ দেন তিনি। নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মহিউদ্দিন বলেন, ‘লতিফ যেন চট্টগ্রামের মাটিতে চলাফেরা করতে না পারে। যদি সে চলাফেরা করে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে। আমি বলছি না করবে, সবকিছু আইনের মাধ্যমেই হবে। তবে জাতির পিতাকে অবমাননা করায় তার ওপর সবাই ক্ষুব্ধ। সে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করেছে। কেউ তা সহ্য করতে পারছে না। তাই কোনো যুবক যদি হঠা‍ৎ করে কোনোক্রমে এ কুলাঙ্গারকে আঘাত করে বসে তাই এ পরামর্শ।’

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা অভিযোগ দিয়েছি। সেই অভিযোগ প্রতিফলিত হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃতি করার ঘটনায় আমরা ক্ষোভ সংবরণ করতে পারছি না। স্বল্প সময়ের মধ্যে লতিফের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করার জন্য আপনার অনুমতি দিন। এটা আপনার কাছে আমাদের আবেদন।’

মহিউদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, ‘এমএ লতিফ চামড়া ব্যবসা করতো। স্যান্ডেল বানাতো। সে কেমনে চেম্বারের সভাপতি হলো। এত অল্প সময়ে কেমনে এত সম্পত্তির মালিক হলো। আমি গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ করবো এসবের যেন তদন্ত করে। তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একজন এমপি এ ধরনের অপকর্ম করতে পারে, কোটি কোটি টাকার মালিক হতে পারে? তার সব সম্পত্তি যেন বাজেয়াপ্ত করা হয়। কারণ তার সাহস বেড়ে গেছে। জাতির পিতার সঙ্গে বেয়াদবি করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।’

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিচার হবে কিনা আমি বলতে পারবো না, তবে আমার দাবি তাকে যেন জেলে বন্দী করা হয়। তা না হলে সে টাকা খরচ করে নিজেকে সাধু বানানোর চেষ্টা করতে পারে, কাউকে কিনে ফেলতে পারে। অন্যায়কারীরা তার পক্ষ অবলম্বন করার চেষ্টা করছে। কেউ লুকিয়ে লুকিয়ে করছেন, অনেকেই সাহস করছেন না। তাই কেউ যেন এ ঘটনায় চক্রান্ত করতে না পেরে সেজন্য তাকে যেন দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।’

‘সে শ্রমিকদের কলঙ্কিত করছে, শ্রমিক স্বার্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, আর বন্দর নিয়ে ছিনিমিনি তো খেলছেই, সে ও কয়েকজন ব্যক্তি বন্দরকে জিম্মি করে জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করছে। বলছে তুমি বন্দরে ডিপ টিউবওয়েল বসানোর দরকার নাই। তুমি (লতিফ) কোন এক্সপার্ট হয়েছো, তুমি তো একজন কুলাঙ্গার। তুমি একজন ইয়াবা বিক্রেতা, কোকেন বিক্রেতার সঙ্গে জড়িত। তাই তোমার পক্ষে এসব বাটপারি করা সম্ভব। এসব করলে রেহাই পাবে না।’ বলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ এ নেতা।

সংসদ সদস্য এমএ লতিফ ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত আছে উল্লেখ করে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘কোকেন আনার ঘটনায়ও লতিফ জড়িত।’

লতিফ যে এলাকার সাংসদ সেই এলাকার সমস্ত লোকও ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে উল্লেখ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘তাকে হুঁশিয়ার করে দেব, তা না হলে কেউ আঘাত করতে পারে-সেজন্য তাকে সাবধান করে দিচ্ছি। আর কেউ তাকে আঘাত করে ফেললেও আসামির কাঠগড়ায় যেতে আমি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী রাজি আছি।’ বক্তব্যে উল্লেখ করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

‘বঙ্গবন্ধুর মাথার সঙ্গে তার অপবিত্র শরীর লাগানোর ঘটনায় তাকে যদি কেউ আঘাত করে বসে তার জন্য যদি কোনো মামলা হয়, সেই মামলায় আসামি আমাকে করতে পারবেন।’ যোগ করেন চট্টলবীর খ্যাত এ নেতা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘লতিফ গোপনে আমাদের সন্তানদের হুমকি দিচ্ছে, প্রলোভন দেখাচ্ছে, তাই তাকে আমরা আর দেখতে চাই না, লালদীঘির মাঠে যাতে ঢুকতে না পেরে, সে জন্য তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি।’

নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, জাতীয় পার্টি (জেপি) নেতা আজাদ দোভাষ, ন্যাপ নেতা আলী আহমদ চৌধুরী, কাউন্সিলর নিলু নাগ, কফিল উদ্দিন খান, সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুম চৌধুরী, ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘দেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। এ সময়েও এমএ লতিফ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃতি করেছে। বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করার ঘটনায় পুলিশের পক্ষে কোনো মামলা হলো না কেন? চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বাদি হয়ে অতিসত্ত্বর দূর্বৃত্তের বিরুদ্ধে যেন একটি মামলা করেন। একুশে ফেব্রুয়ারির আগেই চোরদের দৌড়াতে হবে।’

হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর