অর্থ ও বাণিজ্য

দক্ষিণের নদ-নদীতে নির্বিচারে পোনা মাছ শিকার

1455047959নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ১০ ফেব্রুয়ারি : জাটকা ইলিশ বিরোধী অভিযানের মুখে দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য শিকারীরা নদ-নদীতে পোনা মাছ ধরার মহোৎসবে মেতে উঠেছে। পোনা মাছ মারার জাল হিসেবে পরিচিত বেহেন্দি ও মশারি জাল দিয়ে জাটকার চেয়েও ছোট সাইজের ইলিশ, রিঠা, আইর, পাঙ্গাস, কাচকি, চাপেলি, চাপিদা, ভাটা, বায়লা, পুঁটি, বাইন ও চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নির্বিচারে শিকার করছে। এ সব মাছ কোনটা কোন জাতের তা দেখে চেনা মুশকিল। অধিকাংশই গুঁড়া মাছ হিসাবে কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। একটু বড়গুলো নানা প্রজাতির হলেও তা মিলিয়ে ‘সাচরা মাছ’ হিসাবে ভাগ দিয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

এসব সুস্বাদু মাছ বড় হওয়ার আগেই জেলেরা নির্বিচারে শিকার করায় বিগত এক দশক ধরে ক্রমেই এ সব মাছের বংশবিস্তার কমে যাচ্ছে। এমনকি মশারি জাল টেনে গুঁড়া মাছ ধরার পর নদীর তীরে যে কাদা ও পলিমাটি এনে ফেলা হয় তাতেও হরেক প্রজাতির মাছের ডিম ধ্বংস হচ্ছে। এ সব ডিম আর কখনো পানিতে ফোটার সুযোগ পায় না। যে ভাবে রেণুপোনা পর্যন্ত শিকার করা হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এখানকার নদ-নদীর সুস্বাদু মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। বিএম কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান প্রায় অর্ধশত প্রজাতির মাছ উপকূলের নদ-নদী থেকে হারিয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়ে বলেন, মত্স্য আইনে ৩০ সেন্টিমিটারের নীচে কোনো মাছ ধরা যাবে না; কিন্তু এ আইনটি শুধু ইলিশ শিকারের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাকি যেসব প্রজাতির মাছ  শিকার হচ্ছে সে দিকে কারো দৃষ্টি নেই। মত্স্য বিশেজ্ঞরা মনে করেন, ছোট মাছ নির্বিচারে শিকার হওয়ার কারণেই মৌসুমী মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে বড় পাইকারি ঘাট নগরীর তালতলী ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে- সূর্য ওঠার আগেই প্রায় অর্ধশত নৌকা বোঝাই করে গুঁড়া মাছ নিয়ে হাজির হয়েছে জেলেরা। সারা বছরই এ বাজারে সব ধরনের মাছ পাইকারি দরে বিক্রি হয়। গুড়া মাছ নাম দিয়ে নানান প্রজাতির লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। এ বাজারে প্রতিদিন কয়েক মণ পোনা মাছ বিক্রি হয় বলে মত্স্য ব্যবসায়ীরা জানান।

তালতলী খেয়াঘাট ছাড়াও বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, চরমোনাই, চন্দ্রমোহন, বুখাইনগর ও নলচর এলাকার ঘাটগুলোতে প্রতিদিন ভোরে সূর্য ওঠার পূর্বেই পাইকারদের কাছে জেলেরা এ ধরনের মাছ বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই পাইকাররা স্থানীয় বাজার ও নগরীতে এনে এসব মাছ বিক্রি করছে। জেলেরা জানায়, উপকূলের নদ-নদীতে শীত মৌসুমে সাধারণত চাপেলি, কাচকি ও দগরি মাছ ধরার জন্য তারা শিকারে নামে; কিন্তু এসব মাছের সাথে অবাধে বেহেন্দি জাল, মশারি জাল দিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে নানান প্রজাতির মাছের পোনা। এখানকার মেঘনা, তেতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ, বলেশ্বর, জয়ন্তী, নয়া-ভাংগুলী, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, কালাবদর, কীর্তনখোলা, কারাখানা ও বুড়া গৌরগঙ্গা  নদীতে প্রতিনিয়ত জেলেরা এসব ছোট সাইজের মাছ শিকারে মহাউত্সব চালায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান জানান, উপকূলের নদ-নদীতে সাড়ে ৪ সেন্টিমিটারের জাল দিয়ে মাছ শিকারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর চেয়ে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে চিংড়িসহ যে কোনো ধরনের মাছের পোনা শিকার করলে মত্স্য আইনে ১ থেকে ৬ মাসের জেল, এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এ আইনের বলে সকল মাছ শিকার বন্ধ রাখার জন্য কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর