গোপালগঞ্জ ঢাকা শিক্ষাঙ্গন

২জন শিক্ষক দিয়ে চলছে ২শত ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান

indexগৌরাঙ্গ লাল দাস ,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: চরম শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন।আর এ কারণে ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকবৃন্দ। মেধা থাকা সত্যেও শিক্ষকের অভাবে ভাল ফলাফল থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা।অপরদিকে বিদ্যালয়টির অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীরা মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের হবার কারণে দুরে গিয়ে লেখাপড়া করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে জানাগেছে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ছিকটিবাড়ী ঊমাচরণ সার্বজনীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ২শত ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছে মাত্র ২জন শিক্ষক। আইনি জটিলতা ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি না থাকার কারণে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিছুদিন আগে এই বিদ্যালয়টিতে ৩জন এমপিও ভুক্ত শিক্ষক ছিল। এদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক  দেবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে জাল সার্টিফিকেট দিয়ে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে দেবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস গাঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ছিকটিবাড়ী গ্রামে ১৯৬৮ সালে ঊমাচরণ সার্বজনীন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় নামে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৭-০৮ সালের দিকে বিদ্যালয়টির ছাত্রী সংখ্যা কমে যায়। ২০০৯ সালে ছিকটিবাড়ী ও দেবগ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে সহশিক্ষা চালুর জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করে। শিক্ষা বোর্ড সহশিক্ষা চালুর অনুমতি দিলে ওই দু’গ্রামের লোকজন মিলে স্থানীয় সমাজ সেবক দেবদুলাল বসু পল্টুর সহযোগীতায় দেবগ্রামে ঊমাচরণ সার্বজনীন উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে ওই দুই গ্রামের লোকদের  মাঝে বিদ্যালয় নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে ছিকটিবাড়ী গ্রামের লোকজন একই নামে ছিকটিবাড়ীতে আরেকটি ক্যাম্পাস তৈরী করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির দুই গ্রামে দুটি ক্যাম্পাস বয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মাঝে আইনি লড়াই চলছে। আর এ কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির সাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাইকেল হিরোহিত বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমাদের এই বিদ্যালয়টি নিয়ে যে আইনি জটিলতা আছে তা আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে মিট হয়ে যাবে।
দেবদুলাল বসু পল্টু বলেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা হচ্ছে-বিদ্যালয়টির সকল কার্যক্রম দেবগ্রাম ক্যাম্পাস থেকে পরিচালিত হবে। কিন্তু ছিকটিবাড়ীর লোকজন সে নির্দেশনা মানছেন না।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিদ্যালয়টির দুই ক্যাম্পাসের কয়েকজন অভিভাবক বলেন, দ্রুত আইনী নিষ্পত্তি না হলে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে না। আর শিক্ষক নিয়োগ না দিলে আমাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। আমরা শিঘ্রই শিক্ষক নিয়োগের দাবী জানাচ্ছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন,দুই এলাকার বিরোধের কারনে স্কুলটি ধ্বংস হতে বসেছে। বিদ্যালয়টিতে দু’জন এমপিও ভুক্ত শিক্ষক আছে। এই দু’জন শিক্ষক অবসরে গেলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার নতুন করে আর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিবে না। তাই দু’পক্ষ মিলে একটি সমযোতায় যাওয়া প্রয়োজন।