প্রধান খবর রাজনীতি

গাজীপুরে জাহাঙ্গীর ও শ্রমিকের ভোটই ফ্যাক্টর

gazipur7831হটনিউজ টিম,গাজীপুর থেকে: দেশের সব চেয়ে বড় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন(জিসিসি) নির্বাচনের আর কয়েক ঘণ্টা পর শুরু হবে ভোট গ্রহণ। প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সংশ্লিষ্টতা ও রেকর্ড ভঙ্গ করা প্রচারণায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে জিসিসির নির্বাচনী উত্তাপ। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো প্রার্থী জাহাঙ্গীর ও শ্রমিকরাই হতে যাচ্ছে বিজয়ী নির্ধারক।

জানা যায়, প্রায় ১০ লাখ ২৭ হাজার ভোটের মধ্যে শ্রমিকদের ভোট প্রায় ৩লাখ। বাকী ৭ লাখ ভোটের মধ্যে টঙ্গীতে ৩ লাখ ও গাজীপুরে ৪ লাখ। গাজীপুরের ৪ লাখ ভোটের মধ্যে সাবেক গাজীপুর পৌর এলাকায় প্রায় ২ লাখ ভোট রয়েছে। নতুন ভাবে সংযুক্ত ৬টি ইউনিয়নে বাকী ২ লাখ ভোটার আছেন।

৬টি ইউনিয়নের মধ্যে কাউলতিয়া ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত অধ্যাপক এম এ মান্নানের বাড়ি। কোনাবড়ি, কাশিমপুর, বাসন এই ৩ ইউনিয়নে মান্নানের সমর্থক বেশী। অন্যদিকে গাছা ও পূবাইল ইউনিয়নে সরকারদলীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লা খানের সমর্থক বেশী।
তবে গাজীপুরে কোন দিন নির্বাচন না করায় ভোটারদের সঙ্গে কতটুকু সখ্যতা গড়ে তুলতে পেরেছেন তার উপর নির্ভর করছে দোয়াত-কলমের ভবিষৎ।

এছাড়া আনারস প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের গ্রামের বাড়ি গাজীপুর পৌর এলাকার কানাইয়া গ্রামে। বাসন ও গাছা ইউনিয়নে বসবাস করে জাহাঙ্গীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন। ফলে সাবেক গাজীপুর পৌর এলাকা, গাছা ও বাসন ইউনিয়নে জাহাঙ্গীরের এক ধরণের প্রভাব এখনো বর্তমান। জাহাঙ্গীর আজমত উল্লাকে সমর্থন করলেও তার কর্মী-সমর্থকরা মন থেকে কতটুকু সমর্থন করছেন তা সময়ের ব্যাপার।

এদিকে টঙ্গীতে ৩ লাখ ভোটার রয়েছেন। টঙ্গীতে ১৪ দলের প্রার্থী আজমত উল্লা ও ১৮ দল প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সাবেক সাংসদ হাসান উদ্দিন সরকারের বাড়ি। টঙ্গীতে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহান শাহ আলমের বাড়ি। বিগত সময়ে হাসান সরকার মান্নানের বিরুদ্ধে থাকায় মান্নান টঙ্গীতে সুবিধা করতে পারেননি। এবার হাসান-মান্নান এক হওয়ায় শাহানশাহ আলম ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। ফলে টঙ্গীর ভোট আজমত উল্লাহ ও মান্নান উভয়ে পাবেন।

এদিকে শিল্প নগরী গাজীপুর ও টঙ্গীতে প্রায় ৩লাখ শ্রমিক ভোটার রয়েছেন। জেএসপি নিয়ে সরকার-বিরোধী দলের ধাক্কা-ধাক্কির কারণে শ্রমিকরা কোন দিকে যাবেন তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া প্রবন্ধটি লিখেছেন বলে শ্রমিকরা নিশ্চিত হয়ে থাকলে শ্রমিকদের ভোট নিতে মান্নানকে বেগ পেতে হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গাজীপুর ও টঙ্গীতে একটি আঞ্চলিকতার প্রশ্ন থাকছেই।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জিসিসি নির্বাচনে কে হবেন মেয়র সরকারী দল না বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থী তা নির্ধারণ হতে ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রচারণা বন্ধ থাকলেও প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোটারদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমে অধ্যাপক মান্নানের মাঠ ভালই ছিলো। সম্প্রতি মান্নানের দূর্গে আক্রমন করেছেন আজমত উল্লা। প্রথমে ভোটের ব্যবধান লাখের বেশী হবে বলে প্রচারণা থাকলেও বর্তমানে ওই ব্যবধান অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। যিনিই মেয়র হবেন তার ব্যবধান হবে ৩০/৪০ হাজার ভোট বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।