অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয়

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন পর্যালোচনা করা যায়

Untitled-12ঢাকা: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধিকতর স্বায়ত্তশাসন পর্যালোচনা করার অবকাশ রয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান আইনের এ সংক্রান্ত বিধি-বিধানগুলো নির্মোহভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক্সিকিউটিভ রিট্রিট-২০১৩-তে গভর্নর ড. আতিউর রহমান এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেইঞ্জ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজমী, সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এক্সিকিউটিভ রিট্রিট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কৌশল নির্ধারণী বাৎসরিক আয়োজন। এবার দু’দিনের জন্য এর আয়োজন করা হয়েছে। যা চলবে শনিবার পর্যন্ত।

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনের চেয়ে ব্যক্তির পছন্দ গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক সময় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পছন্দমতো কাজ সম্পাদন করতে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির ক্ষতি করি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই কর্মকর্তাদের আরও বেশি পেশাদারি ও সততা নিয়ে দেশের স্বার্থে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি মানবিক চেহারা দিতে সমর্থ হয়েছি। তবে বিভিন্ন অংশ থেকে এ অভিযোগও উঠেছে যে, তা করতে গিয়ে আমরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্বাচন করতে পারিনি বা সময়ানুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারিনি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘এমনকি একই বিষয়ে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের ভিন্ন মতামত প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছে। সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি বিষয়ের সব পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি।’

আতিউর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক মন্দা, মন্দা পরবর্তী শক ও অভ্যন্তরীণ বাজারের নানান সূচক ছিল অস্বাভাবিক। এ কারণে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও আর্থিক নীতির সঙ্গে সমন্বয়, আর্থিক ব্যবস্থার তদারকিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যাবতীয় দায়িত্ব পালন মোটেই সহজ কাজ ছিল না। পাশাপাশি ছিল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত নতুন নতুন সেবার চাহিদা পূরণের কাজ।’

গভর্নর বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের কাজ করার ধরনে অনেক পরিবর্তন আনতে সমর্থ হয়েছি। এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজ, সিআইবি অনলাইন বাস্তবায়নসহ দেশের পেমেন্ট সিস্টেমে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে।’