খুলনা শিক্ষাঙ্গন

যশোর শিক্ষা বোর্ডের দুই কর্মকর্তার নারী কেলেঙ্কারি ঘটনায় তোলপাড়

jessore-board20130509043339রিপন হোসেন,যশোর থেকে :যশোর শিক্ষা বোর্ডের দুই কর্মকর্তার নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড় । গতকাল দিনভর এই বিষয়টি ছিলো টক অব দ্যা বোর্ড। বোর্ডের কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের মুখে মুখে এই ঘটনা রটে গেলেও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই দুই কর্মকর্তা ছিলেন নির্বিকার। বোর্ড কতৃপক্ষ বলছেন এই বিষয়টা স্পর্শকাতর এবং একান্ত ব্যক্তিগত । তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ বা প্রমান না পাওয়ার কারনে অফিসিয়ালী কোন পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। অন্য একটি মহল বলছেন, যশোর বোর্ডে এধরনের ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। ফাঁস হয়ে পড়লে তোলপাড় নইলে চুপচাপ।

অভিযোগে জানা গেছে, গত সম্প্রতি ঝিনাইদহ থেকে এক সুন্দরী মহিলা যশোর শিক্ষা বোর্ডে আসেন তার হারিয়ে যাওয়া এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার কাগজপত্র তুলতে। অতি জরুরি হওয়ায় ওই মহিলা সহকারি বিদ্যালয় পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের স্মরনাপন্ন হন। সাইফুল ইসলাম ওই মহিলার প্রস্তাবে সাড়াও দেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ দৌড়ঝাঁপও করেন। এক পর্যায়ে নাান ছলতাচুতির মাধ্যমে ওই মহিলাকে সাইফুল ইসলাম তার কক্ষে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রাখেণ। করেন নানা রকমের খোশ গল্প। সাইফুল ইসলামের কক্ষে তাকে দুপুরের খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। একপর্যায়ে সাইফুল ইসলাম ওই মহিলাকে বোঝাতে সক্ষম হন কাজটি একটু জটিল। তাই একদিনেই সম্ভব নয়। আগামীকালকের মধ্যে কাজটি হয়ে যাবে। ফলে তিনি তাকে ওই রাতে যশোরে থাকার পরামর্শ দেন। মহিলা তাতে রাজি হয়ে শহরের বারান্দি পাড়ায় তার দূর সম্পর্কের এক আতœীয়ের বাসায় রাত্রী যাপন করবেন বলে সাইফুল ইসলামকে জানান। কিন্তু লম্পট সাইফুল ইসলাম তাকে আতœীয়ের বাসায় না থেকে তার সাথে যশোরের একটি হোটেলে থাকার প্রস্তাব দেন। একই সাথে নানা ইঙ্গিতে তাকে কুপ্রস্তাবও দেন। গল্পের ছলে তিনি মহিলার শরীরে হাত দেন বলেও াভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ওই মহিলা বোর্ডের অভ্যান্তরে চিৎকার করে সাইফুলের কু প্রস্তাবের বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেন। এক পর্যায়ে পায়ের জুতো খুলে তিনি লম্পট সাইফুল ইসলামকে মারতে উদ্ধত হন বলেও সূত্র জানায়। ছি ছি পড়ে যায় সহকর্মীদের মাঝে । মহিলা বিষটি লিখিত ভাবে বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করতে চাইলে সাইফুলের শুভাকাঙ্খিদের হস্তক্ষেপের কারনে অভিযোগ না করেই ওই মহিলা ঝিনাইদহ ফিরে যান। খবর আছে বোর্ডের বর্তমান দায়িত্বশীলদের কেউ কেউ এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিক ভাবে সাইফুল ইসলামকে তিরস্কার বা গালমন্দ করেন।
অভিযোগে জানা গেছে, ওই মহিলা পরে ঝিনাইদহ থেকে লিখিত অভিযোগ করতে চাইলেও সাইফুলের কারনে করতে পারেননি। কারণ সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহের এক শিক্ষককে নিয়ে ওই মহিলার বাড়ি যেয়ে হাতপায়ে ধরে মাফ চেয়ে আসেন।এ ব্যাপারে সাইফুলের ০১৭১২৯৮২১২৫ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন যে মহিলাকে নিয়ে এই খবর ছড়িয়েছে তিনি তার আতœীয়। তার সাথে শুধুমাত্র ভূল বোঝাবুঝি হয়েছে। এর থেকে বেশি না। বিষয়টি মিটমাট হয়েগেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আর সাইফুলের এই ঘটনার রেস কাটতে না কাটতেই গতপরশু আবার অঘটন ঘটিয়ে বসেন বোর্ডের সহকারি কলেজ পরিদর্শক মফিজুর রহমান।
বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, গতপরশু বোর্ডের সহকারি কলেজ পরিদর্শক মফিজুর রহমান এক বহিরাগত কলগার্লকে নিয়ে নতুন ভবনের ৭ম তলায় যান। সেখানে আপত্তিকর অবস্থায় অফিসের প্রহরীদের হাতে তিনি ধরা পড়েন। প্রহরীরা ৭ম তলায় তাকে আটকে রাখেন। পরে একজন পদস্থ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মুক্ত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে এ বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন মফিজুর রহমান। তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।মফিজুর রহমানের সাথে তার ০১৭১১ ৯৩৩ ২৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করা তিনি আকাশ থেকে পড়ার ভাব দেখান। অথচ এর আগেও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এধরনের একাধিক নারী কেলেংকারীর ঘটনার অভিযোগ আছে। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী থাকা অবস্থায় একবার তিনি তার অফিস কক্ষে একজন স্কুল শিক্ষিকাকে জোর করে শ্লীলতা হানির চেষ্টা করলে ওই শিক্ষিকা পায়ের জুতো দিয়ে তাকে জুতা পেটা করেন। পরে ওই শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মফিজুর রহমানকে সাময়িক সাপেন্ডও করা হয়।
যশোর বোর্ডে নারী কেলেংকারীর ঘটনা নতুন নয়। নানা কারনে বোর্ডে কাজ করতে এসে নারীরা শ্লীলতাহানির শিকার হন। গত ২/৩ মাস আগে বোর্ডের প্রমানপত্র বিভাগের গোপন কক্ষে একজন কলেজ ছাত্রীকে জোর করে রেফ করেন ওই বিভাগের একজন কর্মচারী। পরে বিষয়টি জানজানি হলে ওই কর্মচারীকে অন্য বিভাগে বদলী করা হয়। বিদ্যালয় অনুমোদন ও নিবন্ধন বিভাগেও এর আগে বহুবার নারী কেলেংকারীর ঘটনা ঘটেছ্ েবোর্ডের একজন নারী কর্মচারীকে নিয়ে বোর্ডের রেস্টহাউজে ফুর্তি করার সময় নৈশ প্রহরীর কাছে হাতে নাতে ধরা পড়েন বোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের এক নেতা । সে ঘটনা নিয়েও শুরুতে বেশ তোলপাড় হলেও শেষ পর্যন্ত তা অন্ধকারে চাপা পড়ে।
এদিকে বোর্ডে নারী কেলেংকারী বা নারী নির্যাতনের ঘটনা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে প্রয়োজন সত্বেও নারীরা যশোর শিক্ষা বোর্ডে আসতে ভয় পাচ্ছেন এমন তথ্য দিয়ে বোর্ডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, যশোর বোর্ডের ম্যানেজমেন্ট বলতে কিছু নেই। প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয় বোর্ডকে ডিজিটালইজ করতে ব্যস্ত । আর তার কর্মকর্তা কর্মচারীরা ব্যস্তনারী নিয়ে। এসব বিষয়ে বার বার চেয়ারম্যান মহোদয়কে অবহিত করা হলেও তিনি অজ্ঞাত কারনে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না। যার কারনে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে।
এ সব ব্যাপারে কথা হয় বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আমিরুল আলম খানের সাথে। তিনি লোক মারফত এসব ঘটনা শুনেছেন বলে জানান। তবে কোন অভিযোগ বা তথ্য প্রমান না থাকায় কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলে দাবি করেন। তিনি এও বলেন এসব অবিযোগের অনেকটা রটনা। এসবের পিছনে কর্মচারীদের রাজনৈতিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত আক্রোশ ও বিদ্বেষ কাজ করছে। তবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের এই ধরনে কর্মকান্ডে অফিসের অন্যদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা এ ব্যাপারে অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।