জাতীয় ঢাকা

ফরিদপুর জজ আদালতের কক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষনা

Faridpur-joudge adalot-picরেজাউল ইসলাম রিটু,ফরিদপুর: ফরিদপুর জেলার সবচে পুরনো জজ আদালত ভবনটির বেশ কয়েকটি কক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই গনর্পূত বিভাগ থেকে ভবনের নিদ্দিষ্ট চারটি কক্ষ ব্যবহার না করার জন্য জেলা জজকে চিঠি দিয়েছেন। ভবনের চারটি কক্ষ ঝুঁকিপূর্ন থাকায় বিচার কাজ থেকে বিরত রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিচারক। ফলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জেলা জজ আদালতের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ন থাকায় বিচারক, আইনজীবিসহ সংশ্লিষ্টরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। শুধু চারটি কক্ষই ঝুঁিকপূর্ন নয়, পুরো ভবনটিই ঝুঁকিপূর্ন বলছেন জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্যরা।

সূত্র জানায়, ১২৮ বছরের পুরনো জেলা জজ আদালতের দোতালা এ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ভবনের বেশ কয়েকটি কক্ষ মারাত্বক ঝুকিপূর্ন থাকায় একজন বিচারক অসুস্থ্যতার কারন দেখিয়ে ছুটিতে আছেন, আরেকজন এজলাসে বসছেন না। এরই প্রেক্ষিতে গনর্পূত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী শওকত আলী জেলা জজ আদালতের বিশেষ জজ আদালত, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যাল, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতসহ নকলখানা ব্যবহার না করার জন্য গত ২ জুন জেলা জজকে চিঠি পাঠান। এরই সূত্র ধরে জেলা ও দায়রা জজ আনোয়ারুল হক আদালত ভবনটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দিতে আইন মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ জানান। আদালত ভবন ঝুঁকিপূর্ন থাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আতাবুল্লাহ তার আদালতের কার্যক্রম জেলা ও দায়রা জজকে দেখার অনুরোধ জানিয়ে ছুটিটে যান। এ আদালতের পেশকার সাফায়েত সাজিদ জানান, ৮ জুন থেকে এ আদালতের কোন কার্যক্রম হচ্ছেনা। নোটিশ পাবার পর জেলা জজ শফিকুর রহমান গত ১৬ জুন থেকে তার বিচারিক কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন। তবে এখনো ঝুঁকি নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ বারেকুজ্জামান। ফরিদপুর জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জোয়ারদ্দার জানান, একজন বিচারক ছুটি নিয়েছেন, অন্যজন তার বিচারিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত রয়েছেন। এদিকে, আদালত কক্ষ ঝুঁকিপূর্ন থাকার কারনে বিচারকেরা আদালতে না আসায় মামলার কার্যক্রম দারুন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোঃ খসরুজ্জামান দুলু। আদালত চালু রাখার স্বার্থে দ্রুত নতুন কক্ষ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।