অর্থ ও বাণিজ্য

গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রতিবেদন ২০ জুলাই

ঢাকা: গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকা- পর্যালোচনায় গঠিত কমিশন আগামী ২০ জুলাই পূর্নাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।0110বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সাবেক সচিব মো. মামুনুর রশিদকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশন ইতোমধ্যে কিছু সুপারিশসহ অন্তবর্তী প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে গ্রামীণ পর্ষদ ভেঙে দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংককে ‘টুকরো টুকরো’ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসের অভিযোগ।

অবশ্য অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ‘চরিত্র’ পরিবর্তনের কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই। গ্রামীণ ব্যাংক যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে।

গত ২৬ জুন জাতীয় সংসদে এ বক্তব্য দেয়ার পাশাপাশি ইউনূসের কঠোর সামলোচনা করেন মুহিত। এরপর গত ২ জুলাই ইউনূস সেন্টার এর প্রতিবাদ জানায়।

ইউনূস সেন্টারের বিবৃতির জবাব দেবেন কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, “যথা সময়ে এর জবাব দেয়া হবে।”

১৯৮৩ সালে একটি সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হয়। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টাকে ‘শান্তি স্থাপন’ বিবেচনা করে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংককে।

এরপর ২০১০ এর ডিসেম্বরে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া বিদেশি অর্থ এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে। এরপর দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এই প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকা- পর্যালোচনায় গত বছর ১৬ মে একটি কমিশন গঠন করে সরকার।

গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও বাধাগুলো খুঁজে বের করা, এই প্রতিষ্ঠানে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ ব্যাংকের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আইনি কাঠামো এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকা- পর্যালোচনা করা, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং কীভাবে এই ব্যাংকে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অধীনে নেওয়া যায়- সে বিষয়ে সুপরিশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয় এই কমিশনকে।

সম্প্রতি কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ব্যাংকের বর্তমান কাঠামো বদলে বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করে বলে গণমাধমের খবর।

এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ২ জুলাই রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়।

অবসরের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও পদে থাকার কারণ দেখিয়ে ২০১১ সালের ২ মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে ইউনূসকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিরুদ্ধে ইউনূস উচ্চ আদালতে গেলেও তা খারিজ হয়ে যায়।