শিক্ষাঙ্গন

ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক পরিমলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ অব্যাহত

2013-07-04-11-57-56-51d563448a978-porimol_introআদালত প্রতিবেদক:ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহন অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষিতার মাতা আসামি পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিলে ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক আরিফুর রহমান এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এছাড়া অসুস্থতার কারণে ধর্ষিতা ওই ছাত্রী গতকাল আদালতে আসতে না পারায় তার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামি ২২ অগাস্ট দিন ধার্য করেছেন বিচারক। এ ব্যাপারে ওই আদালতের বিশেষ পিপি ফোরকান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষিতার সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে ওই ছাত্রীর সাক্ষ্য বিচারকের খাসকামরায় নেয়া হবে। এ মামলায় মোট চার জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরা হলেন ভিকটিমের বাবা ও মা, ভিকটিমের মামা বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পরিচালক মুজিবুর রহমান এবং মুখ্য মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান। গতকাল সাক্ষ্য গ্রহনের আগে আসামি পরিমল জয়ধরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পিপি আরোও বলেন, ২০১১ সালের ৭ জুলাই আসামি পরিমল জয়ধর বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দি দিয়েছে। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই ধর্ষিতা ওই ছাত্রী ঢাকার সাবেক মুখ্য মহানগর হাকিম শামীমা পারভিনের কাছে স্বেচ্ছায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পরে এ মামলা থেকে ভিকারুননিসা স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম ও বসুন্ধরা শাখা প্রধান লুৎফর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে আসামি পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে আসামি পরিমলের বিরদ্ধে ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মাহবুবে খোদা।

মামলয় অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ মে অনুমান ১০ ঘটিকায় ভিকারুন্নিসা নুন স্কুলের বসুন্ধরা শাখার পার্শের ‘এফ’ ব্লকে ৬ নম্বর রোডের ৩৫৯ নম্বর বাসায় একতলা ভবনের একটি কক্ষে ভিকারুন্নিসা স্কুলের দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে হাত বেধে, মুখে ওড়না গুঁজে জোরপূর্বক তার ই”ছার বিরুদ্ধে পাশবিক নির্যাতন করে। উপুর্যপুরি পাশবিক নির্যাতনে মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। সে সময় পরিমল তার মোবাইল ফোনে ছবি তোলে। ঘটনার শেষে ছাত্রীটির হাতের বাধন খুলে কাউকে এ বিষয়ে কিছু বললে ইন্টারনেটে নির্যাতনের ছবি ছেড়ে দেয়া হবে বলে হুশিয়ার করে দেয়। পরবর্তীতে ১৭ জুনে পরিমলের কাছে পড়তে গেলে আবারো সে ওই ছাত্রীটিকে নির্যাতন করে। সেদিন ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে পরিমল তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। পরে ২১ জুন বিষয়টি বসুন্ধরা ভিকারুন্নিসা শাখার প্রধান লুৎফর রহমানকে খুলে বলা হলে তিনি ভেবে দেখবেন বলে আশ্বাস দেয়। ২২ জুন পরিমল স্কুলে আসলে শাখা প্রধানকে বিষয়টি আবারো বলা হয়। ২৩ জুন স্কুলে অবিভাবক সহ মিটিং করা হয়। ওই মিটিংয়ে ভিকারুন্নিসার অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম উপ¯ি’ত ছিলো। শেষে গত ২৮ জুন পরিমলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে শাখা প্রধানের কাছে দশম শ্রেনীর সকল ছাত্রীর স্বাক্ষরিত আবেদন জমা দেয়া হয়। সেদিনও ওই শাখা প্রধান বলেন, ঘটনাটি অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বলেন আমার নীতিনির্ধারনী কোন ক্ষমতা নেই। পুরো বিষয়টিই অধ্যক্ষ ‘ডিল’ করেন। পরবর্তিতে এ বিষয়ে তাদের কোন ভূমিকা না থাকায় গত ৫ জুলাই ছাত্রীটির বাবা বাদি হয়ে বাড্ডা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পরিমল জয়ধর, অধ্যক্ষ হোসনে আরা এবং বসুন্ধরা শাখার প্রধান লুৎফর রহমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ৬ জুলাই পরিমল জয়ধরকে কেরানীগঞ্জের পরিমলের স্ত্রীর বড় বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে পরিমল কারাগারে আছেন। পরিমল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ার লাটেংগা গ্রামের বাসিন্দা।