আন্তর্জাতিক

লাইফ সার্পোটে ম্যান্ডেলা

mআর্ন্তজাতিক ডেস্ক: নেলসন ম্যান্ডেলা লাইফ সার্পোটে রয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।প্রায় মাস খানেক ধরে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে প্রিটোরিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাউথ আফ্রিকার এ অবিসংবাদিত নেতা।বুধবার দেশের এক আদালতকে ম্যান্ডেলার মেয়ে মাকাজিউয়ি জানান, তার বাবার অবস্থা ‘বিপজ্জনক’ এবং তিনি লাইফ সাপোর্ট যন্ত্রের সহায়তা শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন।

ওই আদালত ম্যান্ডেলার পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে একটি মামলার রায় দেয়। ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলার বিরুদ্ধে করা মামলায় ম্যান্ডেলার স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেল, মাকাজিউয়িসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য জয় পান।

ম্যান্ডেলার গ্রাম কুনুর কবর থেকে পরিবারের তিন সদস্যের দেহাবশেষ উত্তোলন করে অন্য স্থানে দাফন করেছিলেন মান্ডলা। কিন্তু পরিবার সেগুলো পুনরায় কুনুর করবে দাফনের দাবি জানালেও মান্ডলা তাতে কান দেননি। অবশেষে আদালতে বিষয়টি গড়ালে তার বিপক্ষে রায় যায়।

৯৫ বছর বয়সী ম্যান্ডেলা দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে সংক্রমণজনিতে রোগে ভুগছেন। ৮ জুনসহ দু বছরে পাঁচবারের মতো হাসপাতালে ভর্তি হন শান্তিতে নোবেলজয়ী ম্যান্ডেলা।

১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই জন্ম গ্রহণকারী ম্যান্ডেলা সাউথ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। দেশটিতে কালো আর সাদাদের ভেদাভেদ দূর করতে ছোট বয়স থেকেই আন্দোলন করে অবশেষে জয়ী হন ১৯৯০ সালে।

১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবার আগে ৭৮ বছরের জীবনের ২৭ বছরেই জেলে কেটেছে তার।

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখায় ১৯৯৩ সালে দেশের শেষ শেতাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ডি ক্লার্কের সঙ্গে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ম্যান্ডেলা।

১৯৯৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ঐতিহাস রচনা করেন ‘মাদিবা’। স্বেচ্ছায় ১৯৯৯ সালে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজের প্রতিষ্ঠান নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এইচআইভি, গ্রামীণ উন্নয়ন, বিদ্যালয় তৈরি ইত্যাদি মানবসেবামূলক কাজে নিজেকে নিবেদিত করেন।