জাতীয় বরিশাল

১৯টি ট্রান্সফরমার চুরি, গ্রাহকের ভোগান্তি চরমে

vbAvemমোঃ সাইফুল ইসলাম মিরাজ, বরগুনা: বরগুনায় গত পাঁচ মাসে পল্লী বিদ্যুতের ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের পর আরও কমপক্ষে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সেগুলো বিকল করে ফেলে যায় সংঘবদ্ধ চোরেরা। ফলে এসব এলাকার প্রায় ৭০০ গ্রাহক চরম ভোগান্তির মধ্যে আছেন।

 

সম্প্রতি ট্রান্সফরমার চুরির প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। ট্রান্সফরমার চুরি ও অকেজো করার পেছনে সংঘবদ্ধ একটি চক্র কাজ করছে। এই চক্রের পেছনে বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন অসাধু কর্মচারী জড়িত বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। অকেজো ট্রান্সফরমার মেরামতের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন এসব কর্মচারী। এ ছাড়া গ্রাহকদের অর্থে ট্রান্সফরমার কিনে পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পরও তা পুনঃস্থাপন করতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

 

পল্লী বিদ্যুতের বরগুনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সাইফুল আলম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এ ছাড়া চোরেরা চুরি করতে না পেরে আরও পাঁচটি ট্রান্সফরমার বিকল করে রেখে গেছে। ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে অফিসের কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা এখনও চোর ধরতে বা শনাক্ত করতে পারিনি। চোর ধরা পরলে এই চক্রের সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের কোন লোক জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখবো। তবে সবগুলো ঘটনায় আমরা লিখিতভাবে থানায় মামলা করেছি।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার ট্রান্সফরমার চুরি কিংবা বিকল হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের নতুন ট্রান্সফরমার কিনে কিংবা মেরামত করে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীদের মাধ্যমে পুনঃস্থাপন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য ৩৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

 

বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূত্রে জানা গেছে, এই সমিতির আওতায় প্রায় ১৯ হাজার গ্রাহকের জন্য এক হাজার ৫৮টি ট্রান্সফরমার রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার পূর্ব কেওড়াবুনিয়া, বুড়িরচরের কামরাবাদ, মাইঠা, বড়ইতলা, পশ্চিম বুড়িরচর, শিয়ালিয়া, খাকবুনিয়া ও চালিতাতলী এবং বেতাগী উপজেলার চান্দখালী ও বদনিখালী এলাকার ১৯টি ট্রান্সফরমার গত পাঁচ মাসে চুরি হয়ে যায়। ফলে এসব এলাকার প্রায় ৭০০ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিহীন অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন ।

 

শিয়ালিয়া এলাকার গ্রাহক রফিক বলেন, বন্যার পর আমাদের এখানের ট্রান্সফরমারটি চোরেরা নিতে না পেরে নষ্ট করে রেখে যায়। এতে আমাদের এখানে ২৫টি পরিবার প্রায় ২০ দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। আমরা পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তারা ট্রান্সফরমারটি সারাতে কিছু টাকা দাবি করে।

 

বুড়িরচরের কামরাবাদ এলকার গ্রাহক হাসিনা বেগম বলেন, দুই মাস আগে আমাদের এলাকার ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে যায় কিন্তু এখনও আমরা বিদ্যুত পাইনি। আমার একটা ছেলে এবার এইচএসসি পরিক্ষা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ছেলের পড়া-লেখায় খুব সমস্যা হয়েছে। আর এখন অন্য ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায়ও ব্যাঘাত হচ্ছে।

 

প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করেন মাইঠা এলাকার গ্রাহক আলতাফ হোসেনসহ আরও কয়েকজন।