জাতীয়

পরিবেশবান্ধব সাংবাদিকতা সময়ের চাহিদা

A-rabisa-SM-120130704042057রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে: বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ধরনে এখন পরিবর্তন আসছে। পরিবেশবান্ধব সাংবাদিকতা এখন সময়ের চাহিদা। প্রকৃতিকে বাঁচানোর স্বার্থে পরিবেশবান্ধব সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সে ‘ঢাকার বাইরের ও ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তরা এ কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যেমন চাপ আসে, তেমনি ক্ষমতায় যে দল আসতে চায় তাদের পক্ষ থেকেও চাপ আসে। গণমাধ্যমকে এই দুই দলের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিন এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। পড়াশুনার পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সাংবাদিকতার জগতকে দখল করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর এডিটর ইন চিফ আলমগীর হোসেন বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকার কোনো উপায় নেই। বিশ্ব দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পাঠকরা সংবাদ পড়ার জন্য আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন অগ্রগামী পাঠকদের জন্য পরিবেশবান্ধব সাংবাদিকতার চর্চা খুবই অত্যাবশ্যকীয়।

বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার এই পথিকৃত আরও বলেন, অনলাইন পত্রিকার বিশালতা ও ব্যাপ্তি বাড়ছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অনলাইনে ঝুঁকছে।

২০০৪ সালের শেষে বিডিনিউজ২৪.কম করার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বাংলানিউজকে পাঠকনির্ভরতা তৈরির জন্য অবিরত চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

‘মফস্বল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিনিয়র করেসপন্ডেন্টসহ বেশ কিছু দায়িত্ব পালন করে এখন সুপারভাইজ করছি। যারা সাংবাদিকতা করবে তাদের তৈরি করে দেয়া’, যোগ করেন বাংলানিউজের এডিটর ইন চিফ।

তিনি একথা বলেন, সব পর্যায়ের সাংবাদিকদের চাপ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাংবাদিকদেরও চাপ রয়েছে। তবে সম্ভাবনার জায়গাও অনেক। সাংবাদিকতার জন্য লেগে থাকতে হবে। লেগে থাকলে অনেক কিছু করা যায়। মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে এগানো সম্ভব।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দীর্ঘায়ু কামনা করে পেশাগত উৎকর্ষতার জায়গাটাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তরুণ সাংবাদিকদের আহ্বান জানান আলমগীর হোসেন।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আগের তুলনায় গুণে-মানে অনেক বেশি উন্নত, অগ্রসরমান ও সমৃদ্ধ হয়েছে। আগে হাতেগোনা কয়েকটি ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক, সমিতি ছিল। কিন্তু এখন অন্তত ৫০টি ক্যাম্পাসে সংবাদকর্মী রয়েছে।

‘তবে ইউনিয়ন বা সমিতি দিয়ে সাংবাদিক হওয়া যায় না, পেশাগত উৎকর্ষতা ও মেধা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মেধা দিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জগতকে দখল করতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার নানা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি নিজের মেধা ও চিন্তাকে সেগুলোকে সম্মিলিতভাবে জয় করতে পারলে সত্যের পক্ষে জয়ী হওয়া যাবে। প্রশাসন স্বৈরাচারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কাছে নতি স্বীকার করবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, অনেক ঐতিহ্যের ধারক-বাহক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহার নেতৃত্বের বিষয়টি উঠে আসে তার বক্তৃতায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হামিদুজ্জামান রবি, দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) সাবেক মহাপরিচালক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস।

আলোচক হিসেবে ছিলেন দৈনিক যুগাস্তরের রাজশাহী ব্যুরো চিফ বুলবুল চৌধুরী, সোনার দেশের নির্বাহী সম্পাদক হাসান মিল্লাত, সোনালী সংবাদের বার্তা সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম ফটিক।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক সমকাল ও চ্যানেলটোয়েন্টিফোরের রাজশাহী ব্যুরো চিফ শিবলী নোমান, রাবিসাসের সাবেক সভাপতি মোল্লা আমজাদ।

সাংবাদিকতা জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি নীতিমালা তৈরি করে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষতার শিখরে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকদের চাপের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার এবং প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ না করার আহ্বান জানান।