প্রধান খবর

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ

01552601805_20130704004103হটনিউজ: খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সময় চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য জন্য পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে চার সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের শপথ বাক্য পাঠের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক তারিখ, সময় ও স্থান জানতে চাওয়া হয়েছে।

শপধ গ্রহণ সংক্রান্ত নথিপত্রে বলা হয়েছে, গত ১৫ জুন খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ গেজেটে ২৪ জুন,২০১৩ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

আইনুযায়ী মেয়র বা কাউন্সিলগণের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ হবার ৩০দিনের মধ্যে সরকার বা তদকর্তৃক মনোনীত কতৃপক্ষ মেয়র ও সকল কাউন্সিলরকে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়রকে প্রধানমন্ত্রী শপথ পাঠ করান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান বলে উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব পেতে আরো তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। সিটি করপোরেশন আইনের কারণেই তা করতে হবে।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৬ ধারায় বলা আছে, করপোরেশনের মেয়াদ হবে এর প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পুনর্গঠিত করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আগের করপোরেশন দায়িত্ব পালন করে যাবে।

একই আইনের ৩৪ ধারায় বলা আছে, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে। আইনের ৯/২ ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে থাকলে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়া যাবে না। কিন্তু ২০০৯ সালে আদালত সিটি করপোরেশনের শুধু মেয়রের পদকে লাভজনক বলে রায় দেন। ফলে এবার চার সিটির মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান, তালুকদার আবদুল খালেক, শওকত হোসেন হিরণ ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরান গত ৯ মে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেন। নতুন মেয়র দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত জ্যেষ্ঠ কাউন্সিলররা প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লাভজনক পদ নিয়ে আদালতের ব্যাখ্যার আগে মেয়ররা স্বপদে থেকে নির্বাচন করতেন। যেমন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী পদত্যাগ করে নির্বাচন করেন। মূলত সেখান থেকে আদালতের ব্যাখ্যাসহ আইনটি নতুনভাবে কার্যকর হয়। কিন্তু আগের মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আট দিন আগে ওই নির্বাচন হওয়ায় নতুন মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়নি।

এবার তিন মাস আগে নির্বাচন হওয়ায় নবনির্বাচিতদের এত দিন অপেক্ষায় থাকাটা আলোচনায় এসেছে। অবশ্য আইনের আরেকটি ধারাও এমন আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। আইনের ৩৬ ধারায় বলা আছে, নির্বাচনের পর কমিশন যথাসম্ভব দ্রত নির্বাচিতদের নাম গেজেটে প্রকাশ করবে। ৭ ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের নাম গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে তাদের শপথ পড়াতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ গতকাল বুধবার বলেন, “আইনে যা বলা আছে, কমিশন সে অনুযায়ী কাজ করবে। এরপর যা যা করণীয়, তা স্থানীয় সরকার বিভাগকে করতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্যানেল মেয়ররা দায়িত্ব পালন করবেন। মেয়াদ শেষ হতে আরও তিন মাস বাকি। আইনে আরো বলা আছে, গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে হবে। তাই নবনির্বাচিতদের গেজেট বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মো. শহিদ খান বলেন, তারা এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা গ্রহণ করবেন। মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আইন অনুযায়ী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর, খুলনার মেয়াদ শেষ হবে ২৫ সেপ্টেম্বর, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে ৮ অক্টোবর। তবে নির্বাচিতরা এখনই দায়িত্ব বুঝে নিতে উদগ্রীব।