লাইফ স্টাইল

পোকামাকড়ই কি হবে ভবিষ্যতের খাবার?

image_33776_01.thumbnailওয়াশিংটন: বিশ্বে দিন দিন বাড়ছে জনসংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা ও দাম। কিন্তু যে হারে খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, তাতে একসময় দেখা দিতে পারে খাদ্য সংকট। ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদার যোগান নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীরাও নেমেছেন ‘বিকল্প’ খাদ্যের খোঁজে।

কিন্তু ‘বিকল্প’ খাদ্য আসলে কি? বিজ্ঞানীরা বিকল্প খাদ্য বলতে আসলে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন? বিকল্প খাদ্যের তালিকায় প্রথমেই উঠে এসেছে পোকামাকড়ের নাম। কী, চমকে উঠলেন। বিশ্বে প্রায় ২০ কোটি মানুষ কিন্তু পোকামাকড় খেয়েই বেঁচে আছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকার মানুষ নিয়মিত ফড়িং, পিঁপড়া ও মাকড়সার মতো পোকামাকড় খেয়ে যাচ্ছে। এগুলোই তাদের প্রধান খাবার। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় পোকমাকড় খাওয়া অকটাই সহজ ব্যাপার হয়ে উঠছে। গত বছর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা খাওয়ার উপযোগী ১৯শ’ পোকামাকড়ের তালিকা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, পোকামাকড় রান্নার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য দেশগুলোতে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিতে চেয়েছিল। পোকামাকড় নিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী দুইটি প্রতিষ্ঠানের উৎসাহের কারণ হলো, পোকামাকড়ের সহজলভ্যতা। পোকামাকড় মাছ কিংবা অন্যান্য প্রাণিজ খাদ্যের চেয়ে টেকসই খাদ্য উৎস। পোকামাকড় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। বিশ্বে একজন মানুষের বিপরীতে ৪০ টন পোকামাকড় বিদ্যমান। এছাড়া, এসব পোকামাকড় পুষ্টিকরও বটে। পোকামাকড়ে রয়েছে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন, কম ফ্যাট ও কোলেস্টেরল। এতে উচ্চমাত্রায় ক্যালসিয়াম ও লৌহও রয়েছে। এসব কারণে আগে পোকামাকড়কে পশ্চিমা বিশ্বে পোকামাকড় খাওয়ার ধারণা পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে পোকামাকড় খাওয়াকে খুবই খারাপ মনে করা হলেও এখন পোকামাকড় খাওয়াকে ভালো চোখেই দেখছেন পশ্চিমারা। তবে, পোকামাকড় ছাড়াও বিকল্প খাদ্য হিসেবে নিরাপদ প্যাকেটজাত খাবার ও জেনেটিক্যালি মোডিফায়েড খাবার বা জিএম ফুডের নাম জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান