ঢাকা প্রধান খবর

শেখ হাসিনাকেই ,শিথিলতা কাটাতে হাল ধরতে হবে

sheikh-hasina1হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: বাংলাদেশের চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে সময় যে এখন আওয়ামী লীগের প্রতিকূলে সে বিষয়টি আলোচনার খোরাক যোগাচ্ছে দেশের সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সচেতন মহলেও।ভারতের প্রখ্যাত পত্রিকা ‘দ্য পাইওনিয়ার’-এ গত শনিবার ৪ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শাসক দলের চরম বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে এক নিবন্ধ ছাপা হয়।ওই নিবন্ধে আত্ম সমালোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টাই যে আওয়ামী লীগের জন্য এ মুহূর্তে ফলদায়ক হবে সেটিই তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজের উদ্যোগী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই তাও তুলে ধরেছেন ‘দ্য পাইওনিয়ার’-এর সাংবাদিক হিরন্ময় কার্লেকর।ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ‘দ্য পাইওনিয়ার‘ পত্রিকায় শিরোনাম ছিল ‘শেখ হাসিনা মাস্ট গেট হার অ্যাক্ট টুগেদার’।এরশাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার বৈঠকের প্রসঙ্গটিও উঠে আসে নিবন্ধে। দেশের সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে আওয়ামী লীগ যে অনেকটা কোনঠাসা এবং পরিবর্তিত এ পরিস্থিতিতে মহাজোটের শরীক এরশাদ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন সেটিও ব্যাখ্যা করে দেখানো হয়েছে নিবন্ধে।ওই বৈঠকের পরও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থনের ব্যাপারে এরশাদের সুস্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ার বিষয়টি যে তাৎপর্যপূর্ণ সেটাও তুলে ধরেছেন হিরন্ময়।তার নিবন্ধে উঠে আসে সিংগাপুরে এরশাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের গুজব সম্পর্কে। যদিও জাতীয় পার্টি ও বিএনপি উভয় তরফেই এ বৈঠকের কথা নাকচ করা হয়।তবুও এরশাদ ও খালেদা জিয়ার একই সময়ে সিংগাপুরে উপস্থিতির ঘটনাটি কাকতলীয় কি না, এ সন্দেহের বিষয়টিও উঠে আসে তার লেখায়।নিবন্ধে লেখা হয়েছে সম্প্রতি সরকারের নানা ব্যর্থতায় কঠোর সমালোচনায় মুখর এরশাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের কথিত গুজবে স্বস্তি নেই আওয়ামী লীগেও।তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে আওয়ামী লীগের আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টার বিষয়টি উঠে আসে হিরন্ময়ের লেখায়।এ প্রসঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অর্ধেকেরও বেশি সংসদ সদস্যের মনোনয়ন না পাওয়া সংক্রান্ত যে খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সেটি তুলে ধরে হিরন্ময় লেখেন, ওই সব সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার অভিযোগ আছে।পাশাপাশি গাজীপুর নির্বাচনকে যে আওয়ামী লীগ নিজেদের জন্য প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে নিয়েছে সে বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ওই নির্বাচনের প্রচারণায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি অর্ধশতাধিক সংসদ সদস্যের সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টিও এরই লক্ষণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীরকে কেন্দ্র করে জল ঘোলার বিষয়টি যে আওয়ামী লীগকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে তাও তুলে ধরেছেন তিনি।তবে গাজীপুরেরই আরেকটি পৌরসভা কালীগঞ্জের মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে নিবন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, এ ঘটনার প্রভাব জিসিসি নির্বাচনে পড়লেও পড়তে পারে।জিসিসি নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতটুকু প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে প্রশ্ন রেখে হিরন্ময় অবশ্য উল্লেখ করেন, গাজীপুরে জয়লাভ আওয়ামী লীগের ক্ষয়িষ্ণু নৈতিক অবস্থানকে কিছুটা হলেও ফিরিয়ে দিতে পারে।নিবন্ধে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের হারের কারণও বিশ্লেষণ কছেন তিনি।ক্ষমতাসীনদের সাম্প্রতিক পরাজয়ের পেছনে হেফাজত ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি ওই সব এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অপকর্মও অনেকটাই স্থান করে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ‍এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে ওই সব এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও এসব অপকর্মের নিচে চাপা পড়ে গেছে।এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বরিশালে হিরণ-হাসানাত দ্বন্দ্ব সামনে এনে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই নির্বাচনে হিরনের পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা কাজ করেছেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।পাশাপাশি সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিপদ-আপদে ওই সব এলাকার আওয়ামী লীগের লোকজনদের এগিয়ে না আসা এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে তাদের বাড়িঘর সম্পদ দখলে অগ্রগামী ভূমিকায় থাকার বিষয়টিও যে ওই সব এলাকার সংখ্যালঘু ভোটাররা ভালো ভাবে নেননি সেটাও উল্লেখ করেছেন তিনি।এ প্রসঙ্গে রাজশাহী প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক ধর্মীয় সহিংসতায় আক্রান্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশে এসে দাঁড়াতে ব্যর্থ হন লিটন। এছাড়া সিলেটে বিশাল সংখ্যালঘু ভোট থাকলেও মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান তাদের সমর্থন পাননি।এর কারণ হিসেবে হিরন্ময় মনে করেন যে ওসব এলাকা সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি গ্রাসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।শাপাশি পদ্মা সেতু হলমার্ক ও শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারি যে ভোটারদের মনে প্রভাব বিস্তার করেছে সে বিষয়টি উল্লেখ করে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনুসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।নিবন্ধে সতর্ক করে দিয়ে বল‍া হয়, ড. ইউনুসের যে ব্যাপক আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তাই নয়- বরং তার গ্রামীণ ব্যাংকের একটি বিশাল উপকারভোগী গোষ্ঠী ছড়িয়ে আছে সারা দেশেই।আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে তারা ভালোভাবে গ্রহণ নাও করতে পারে। এছাড়া ইউনুসের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠকের বিষয়টিও উপেক্ষার বিষয় নয় বলে নিবন্ধে উল্লেখ করেন তিনি।পরিস্থিতি উত্তরণে তাই আওয়ামী লীগকে শিথিলতা কাটিয়ে উঠতে হবে, এই নিবন্ধের ছত্রে ছত্রে মূলত এটিই উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি করতে হবে নিজেদের দলীয় ব্যর্থতাগুলোর মূল্যায়ন।পৌঁছাতে হবে তৃণমূলের কাছাকাছি। আর সামনে থেকে এসবে নেতৃত্ব দিতে হবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে।এর অন্যথায় ফলাফল যে আওয়ামী লীগের জন্য সুখকর হবে না, তা বুঝতে দিব্যদৃষ্টির প্রয়োজন হয় না, তা বলাই বাহুল্য।