জাতীয় রাজনীতি রাজশাহী

রাজশাহী বিএনপিতে অনৈক্যের সুর বাড়ছে মিনু-নাদিমের দুরত্ব

fhgfdhfngmhরাজশাহী ব্যুরো: সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কয়েকদিন পার হতেই চাপের মুখে পড়েছেন নবনির্বাচিত মেয়র বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু এবং দলের বিশেষ সম্পাদক ও জেলা সভাপতি এডভোকেট নাদিম মোস্তফার অনুসারিদের মন রক্ষা করতে গিয়ে তিনি পড়েছেন বেকায়দায়। এদিকে, সিটি নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যে ঐক্য দেখা গেছিলো এরই মধ্যে তা ভেঙ্গে পড়েছে। স্থানীয় বিএনপিতে তৈরী হয়েছে অনৈক্যের সুর। জেলা ও স্থানীয় বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে পবা উপজেলার দারুশা বাজারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সংবর্ধনা দিয়েছে বিএনপি। মহানগর বিএনপির আওতার বাইরে এ সংবর্ধনার আয়োজনকে ঘিরে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে পবার হুজরিপাড়া ইউনিয়নের দারুশা বাজারে আয়োজিত এ সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা সেলিম রেজা বাচ্চু। তাকে পবা থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। তবে, বিএনপির রাজশাহী জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, নবনির্বাচিত সিটি মেয়রের সংবর্ধনার নামে দারুশা বাজারে যে সভা করা হয়েছে, সে সর্ম্পকে রাজশাহী জেলা, পবা উপজেলা এমনকি হুজরিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের জানানো হয়নি। অনুষ্ঠানে যিনি সভাপতিত্ব করেছেন, সেই সেলিম রেজা বাচ্চু পবা উপজেলা বিএনপির অনুমোদিত কমিটির কোন পদে নেই। ২০১০ সালের আগের কমিটিতে তিনি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০১০ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে শাহজাহান আলীকে সভাপতি ও মফিদুল ইসলাম বাচ্চুকে সাধারণ সম্পাদক করে পবা উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছে। হুজরিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে সভাপতি পদে রয়েছেন আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন বেলাল হোসেন। তাদের কাউকেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সর্ম্পকে জানানো হয়নি। এনিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জেলা বিএনপির নেতারা দাবি করেন, সংবর্ধনা সভার কথা জানতে পেরে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে দারুশা বাজারের অনুষ্ঠানে না যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল, গত ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে মহানগর ও জেলা বিএনপি দীর্ঘদিনের বিভেদ ভুলে বুলবুলের পক্ষে মাঠে নামে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু ও জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা একত্রে জনসংযোগে অংশ নিয়ে বুলবুলকে মেয়র পদে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখেন। মিনু-নাদিমের ঐক্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উজ্জীবিত হলে বিএনপির হারানো দুর্গ রাজশাহী মহানগর আবারো পুনরুদ্ধার হয়। এদিকে, বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বুলবুলকে সংবর্ধনা দেয়ার নামে যে সভার আয়োজন করা হয়েছিল, তা মূলত মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনকে পরিচিত করাতেই। আগামি সংসদ নির্বাচনে পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৩ আসনে মিলন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করতে চান। আর তাকে প্রতিষ্ঠিত করতেই মিজানুর রহমান মিনুর পরামর্শে বুলবুলের সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। বিএনপির ওই নেতা বলেন, রাজশাহী-৩ আসনে নির্বাচনের জন্য বিএনপির একাধিক প্রার্থী এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছে। দলের হাইকমান্ড যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই আগামি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। কিন্তু তার আগেই এই পরিচিতি পর্ব বিএনপির ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে। এতে করে স্থানীয়ভাবে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং যার প্রভাব পড়বে আগামি জাতীয় নির্বাচনে। জেলা বিএনপির নেতারা বলছেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বুলবুলের পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিলেন। কিন্তু বুলবুল এখন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের অবজ্ঞা করে মহানগর বিএনপির নেতাদের যেভাবে প্রাধান্য দিচ্ছেন, তাতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মর্মাহত। তাদের মতে, মহানগরের বাইরে জেলায় কোন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বুলবুল যোগ দিতে চাইলে তার উচিত জেলা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের সাথে নেয়া। তিনি তা না করে স্থানীয় বিএনপির বৈধ কমিটিকে পাশ কাটিয়ে গতকাল যেভাবে সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়েছেন, তাতে বিএনপির মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা বলেন, সংবর্ধনার বিষয়টি জেলা বিএনপি, পবা উপজেলা ও হুজরিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতারাও জানেন না। নবনির্বাচিত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও আমাদের এ ব্যাপারে কিছু জানাননি।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের পর থেকেই মিনু নাদিমের দুরত্ব আবারো স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের একসাথে দেখা গেলেও এখন আর সেই চিত্র দেখা যায়না। এদিকে, দ্বায়িত্ব নেয়ার আগেই বুলবুল দুই নেতার অনুসারিদের নিয়ে যে চাপে পড়েছেন তাতে আগামী দিনে তাকে জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।