অপরাধ সিলেট

ব্রিটিশ যুবতী হত্যা:মূল আসামীরা ধরাছোয়ার বাহিরে

BRITSH WOMEN -2মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে ব্রিটিশ যুবতী সেহলিনা তিলাত ইউনা (২৪) – ঘটনায় অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে নিহতের ভাই মুহিবুর নুর রুম্মান। পুলিশ এই হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে। আসামি শনাক্ত না হলেও অচিরেই ঘটনার মূল হোতারা বেড়িয়ে আসবে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার আসামি ধরতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন গাড়ির চালক সৈয়দ নিয়াজ আহমদ রাজু(২৮)কে গ্রেপ্তার করে জেলা হাজতে প্রেরন করে আদালতের মাধ্যমে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

ঘটনার তদন্তরকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, নিহত ব্রিটিশ যুবতীর ছেলে বন্ধুদের লম্বা তালিকা রয়েছে। এজন্য যারা প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনার সাথে স¤পৃক্ত রয়েছে তাদেরকেই গ্রেফতার করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার সুযোগ নেই। আর হত্যাকারীরা কোনভাবে তরুণীর ইজ্জতের ওপর হামলা করতে চাইলে সে প্রতিবাদ করায় ইউনার মৃতদেহ এভাবেই প্রাইভেট কারের পিছনের সিটে পড়েছিল। লাশ উদ্ধারের সময় যে দৃশ্য দেখা গেছে তার ভিত্তিতেই এমন ধারনা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এছাড়াও শহরে অনেকেই বলেছেন তরুণী জীবনযাপনে ছিল উচ্ছৃঙ্খল তার পোশাক পড়া ছিল ছেলেদের যৌন উত্তেজনার কারন। তবে পরিবারের লজ্জার কারণে মিডিয়াকে কোন ছবি ধারণ করতে দেয়নি নিহতের পরিবারের সদস্যরা। ২৯ জুন রাত ১০টায় মৌলভীবাজারের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় নিজ প্রাইভেট কারে পাওয়া যায় মাথার পেছনের দিকে আঘাতপাপ্ত একটি ঢাওয়াল মুড়ানো অবস্থায় ইউনার লাশ। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তার মৃত্যুর কারণ রহস্যজনক।

এলাকাবাসীরা জানান, এই ব্রিটিশ যুবতী নিজেই তার প্রাইভেট কার ড্রাইভ চালাতো। তবে তার পরিবারের কেউ তার মৃত্যু নিয়ে তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই এমনকি মূখ খুলতেও নারাজ। মামলা এজাহার সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার নগর(ঢাকা দক্ষিন)গ্রামের মৃত কলা মাষ্টারের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জামিলুর রশিদের সাথে বিয়ে হয় ব্রিটিশ যুবতী ইউনার। গত ২৭ মে যুক্তরাজ্যে স্বামীকে রেখে দেশের বাড়ি মৌলভীবাজারে আসে। কখনও থাকতো সে বাবার বাড়ি আবার কখনও নানার বাড়ি। নিজেই গাড়ি চালাতো ইউনা। মাঝে মধ্যে ছেলে বন্ধুদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ঘুরতে বেরতো জেলার বিভিন্ন স্থানে। তার বন্ধুদের তালিকাও অনেক লম্বা এতে জেলা র্শীষ ক্রইমারও রয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার বিকেলে তার ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-গ-১২-২৬৪৪ প্রাইভেট কারটি নিজে চালিয়ে কোথায় যাচ্ছে কাউকে বলে যায়নি। সঙ্গে তার কেউ ছিলনা। শনিবার রাত ১১টা ১১ মিনিটে মডেল থানায় গোমড়া এলাকার এক মহিলা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে একটি প্রাইভেট কারের ভিতর একজন তরুণীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য সামছুল ইসলামকে খবর দেয়। ইউপি সদস্য সাথে সাথে ঘটনাস্থলে এসে লাশ দেখে পুলিশকে সংবাদ দেন। পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে লাশ,গাড়ি, ব্যানটিব্যাগ, চেকবহি নগদ ১২শ ৫০ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান জানান, নিহত যুবতীর পরিবারের পক্ষে মামলা নেয়া হয়েছে। এঘটনার তদন্ত্য গুরুত্বসহকারে করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন- নিহত তরুণীর বন্ধুদের তালিকা অনেক লম্বা যাহতে জেলার র্শীষ তালিকাভুক্তরা রয়েছে। তাই প্রকৃত হত্যাকারী শনাক্ত করতে একটু হিসাব করে এগুতে হচ্ছে। তার আশা শিগগিরই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সপার নুরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে যা যা করার প্রয়োজন তাই করা হচ্ছে। অচিরেই মূল হোতারা ধরা পড়বে।