চট্টগ্রাম শিক্ষাঙ্গন

১০ শিক্ষার্থীকে বহিস্কার ২ জনের জরিমানা

nstu3কামাল হেসেন মাসুদ, নোয়াখালী:নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লায়েড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার ও ২ জনকে আর্থিক জরিমানা করা হয়, দুই শিক্ষককে বিভাগে আটক রেখে শিক্ষার্থীরা লাঞ্চিত করার অভিযোগে । তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনঢ় থেকে বিভাগের সামনে সকাল থেকে মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে আমরণ অনশনে নামে এবং আত্মহুতির হুমকি দিয়ে একটি লিখিত পত্র ভিসিকে দেয়ার চেষ্টা করে। উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে অর্ধশতাধিক পুলিশ মোতায়েন করে। বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভিসির সাথে দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে প্রশাসনিক ভবনের বেশ কয়েকটি জানালার গ্লাস ভাংচুর করে। এতে ২জন শিক্ষক আহত হয়। আহতদের মধ্যে ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জামিউল ইসলাম অপর জনের নাম জানা যায়নি।

সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ ২মাস ধরে এপ্লায়েড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগের নাম পরিবর্তনসহ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী, শিক্ষক নিয়োগ ও পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিগত ২৮ মে তাদের দাবি মেনে নিয়ে আগামী একমাসের মধ্যে তা কার্যকর করার প্রতিশ্র“তি দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন থেকে বিরত থাকে। কিন্তু একমাস অতিবাহিত হওয়ার পর প্রশাসন জানান তাদের বিভাগের নাম পরিবর্তন ও ডিগ্রী প্রদান করা সম্ভব হবে না। ঘটনাটি ক্যাম্পাসে জানাজানি হওয়ার পর ৩০ জুন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের আগের দাবিতে পুনরায় আন্দোলন শুরু করে এবং দুইজন শিক্ষককে বিভাগের একটি কক্ষে আটক রাখে। পরে রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা গিয়ে মুছলেকা দিয়ে দুই শিক্ষককে উদ্ধার করে। এক পর্যায়ে শিক্ষকরা জরুরী সভা ডেকে শিক্ষকদের সম্মান ও নিরাপত্তার চেয়ে ভিসিকে পত্র দেয় এবং ভিসিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে। পরে গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রেজিষ্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল হকের স্বাক্ষরিত ভিন্ন ভিন্ন আদেশে শিক্ষক লাঞ্চিত করার অভিযোগ এনে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিস্কার ও দুই শিক্ষার্থীর জরিমানার আদেশ দেন বহি¯ৃ‹তরা হলো এসিসিই বিভাগের মো. জহিরুল ইসলাম, আবদুস সোবহান খান, খালেদ মো. সাইফুল্লাহকে দুই বছর করে, দেবাশিস সরকার, এসএম জুলকার নাইন, মো. ফারুক, আশেকিন দেওয়ান, দোছ মোহাম্মদকে দেড় বছর করে, সদ্বীপ দাস, দিদারুল আলমকে এক বছর করে বহিস্কার করে এবং মীর হোসেন ও হোসনে মোবারককে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এবং দুপুর ২টার ভিতরে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। এছাড়া বিভাগের নাম পরিবর্তন ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী দেয়া সম্ভব নয় বলেও নোটিশে জানিযে দেয়া হয়। একই নোটিশে ডিগ্রি পরিবর্তনে লক্ষ্যে আন্দোলরত ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনতিবিলম্বে শিক্ষা কার্যক্রমে নির্দেশ দেয়া হয়। নোটিশ প্রাপ্তির পর ফলিত রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে আমরণ অনশন করে এবং আত্মহুতির লিখিত বিবৃতি দেয়। পরে তাদের সাথে ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশন সায়েন্সের শিক্ষার্থীরা যোগ দেয়। এ দিকে প্রশাসন ক্যাম্পাসে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক পুলিশ মোতায়েন করে। বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভিসির সাথে দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের একাধিক জানালার গ্লাস ভাংচুর করে।

এ দিকে শিক্ষক সমিতির প্রচার সম্পাদক ফিসারিজ এন্ড মেরিন সাইন্সের সহকারী অধ্যাপক মফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে জানান, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাপ্পি ও অভিজিতের নেতৃত্বে ভিসির কক্ষে থাকা শিক্ষকদের গায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এতে দুই শিক্ষক আহত হয়। বর্তমানে তারা অনেকে ওখান থেকে কোনমতে বেঁচে গিয়ে ডরমিটরিতে অবস্থান নেই এবং সেখানে তাৎক্ষণিক শিক্ষক সমিতির এক বৈঠক হয়। বৈঠকে ভিসিকে ক্যাম্পাস ত্যাগ ও পদত্যাগের দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল হক জানান, শিক্ষার্থীদের দাবী কোন মতেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের কোথাও এ ডিগ্রী নেই। সুতরাং আমাদের দেয়া নোটিশে আমরা অনঢ় থাকবো। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।