আন্তর্জাতিক

আরো ২১টি দেশে আশ্রয় চাইলেন স্নোডেন

hgআন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া এবং ইকুয়েডোরের পর এবার রাজনৈতিক শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় চেয়ে ২১টি দেশে আবেদন করেছেন সাবেক সিআইএ সদস্য এডওয়ার্ড স্নোডেন। এরমধ্যে চীন, ফ্রান্স আয়ারল্যান্ড ও ভেনিজুয়েলাও রয়েছে। এরআগে, স্নোডেন রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে চাইলে, তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করা থামাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়হীন শরনার্থীতে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্নোডেন।

একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা স্নোডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার কোন পরিকল্পনা নেই রাশিয়ার। শর্ত সাপেক্ষে তাকে আশ্রয় দিতেও আপত্তি নেই রুশ প্রেসিডেন্টের। তবে স্নোডেনের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ গন্তব্য সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান “স্নোডেন যদি অন্য কোথাও আশ্রয় নিতে চান বা কারো যদি তাকে আশ্রয় দেবার আগ্রহ থাকে তাহলে তারা তা করতে পারেন। কিন্তু যদি তিনি রাশিয়ায় আশ্রয় চান তাহলে তার সামনে একটাই পথ রয়েছে, আর তা হলো তাকে আমেরিকা বিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। আমার পক্ষ থেকে এধরনের কথা বিস্ময়কর হলেও আমি এটাই বলতে চাই।”
আন্তর্জাতিক আইন মেনেই স্নোডেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাশিয়াকে আহবান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আফ্রিকা সফরের শেষ ধাপ হিসেবে তানজানিয়ায় এসে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন “এ সমস্যার সমাধানে রাশিয়ার সাথে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চলছে। রাশিয়ার সাথে আমাদের বন্দি হস্তান্তর চুক্তি নেই। তবে স্নোডেন কিন্তু কোন বৈধ পাসপোর্ট কিংবা কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে গেছেন, তাই আমরা আশা করবো এ বিষয়ে রাশিয়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও তাদের সাধারণ আইন অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেবে।”
ওবামার এই কূটনৈতিক মারপ্যাঁচের কড়া সমালোচনা করেছেন স্নোডেন। সোমবার উইকিলিক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত ও বিভিন্ন দেশে আশ্রয়ের আবেদনের বিরোধীতা করে প্রেসিডেন্ট ওবামা তাকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়হীন শরনার্থীতে পরিণত করেছেন। শুরুতে তার বিষয়ে কোন কুটনৈতিক প্রভাব খাটানো হবে না বলে উল্লেখ করলেও তাকে আশ্রয় না দিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দেশের প্রধানদের চাপ দেয়াকে ওবামা প্রশাসনের নোংরা রাজনীতি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে, স্নোডেনকে আশ্রয় দিলে ইকুয়েডরের বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দেয় যুক্তরাষ্ট্র।