কৃষি ঢাকা

আনারস চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

Honeyqueen-pineapples-2নরসিংদী প্রতিনিধি:নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উঁচু এলাকার লাল মাটিতে আনারসের ফলন ভালো হওয়ায় আনারস চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার কৃষকদের। বিশেষ করে উপজেলার রাবান, বরাবো এবং জিনারদী এলাকায় কয়েক বছর ধরে ব্যাপকভাবে আনারসের চাষ হচ্ছে। পলাশ উপজেলায় ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস চাষে কয়েকশ’ কৃষক ইতিমধ্যে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, “এই এলাকায় আনারসের ফলন ভালো হওয়ায় বিগত কয়েক বছর যাবত আনারস চাষ করে অনেক কৃষকই স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। আনারস চাষ এখানে এতটাই জনপ্রিয় যে, বাসা-বাড়িতে বাগান করার পরিবর্তে অনেকেই আনারস চাষ করে স্বাচ্ছন্দের মুখ দেখতে পেয়েছেন।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুকছেদ আলী বলেন, পলাশ উপজেলার মাটি আনারস চাষের জন্য উপযুক্ত। আনারস সাধারণত উঁচু জমিতে চাষ করা হয়। এবার একর প্রতি প্রায় ১ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে চাষিরা প্রতি বিঘায় ১২ শ’ থেকে ১৫ শ’ করে আনারসের ফলন পেয়েছেন।” এ বছর পলাশ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে বলেও জানান তিনি ।

তিনি আরো জানান, বাজারে ‘হানিকুইন’ জাতের আনারসের ব্যাপক চাহিদা থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে এটি খেতে খুব সুস্বাদু এবং সুন্দর গন্ধযুক্ত। স্থানীয় বাজারে এই আনারস প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, পলাশ উপজেলার জিনারদী, রাবান ও বরাবো এলাকায় স্থানীয় কৃষকেরা ছোট বড়ো অসংখ্য আনারসের বাগান গড়ে তুলে সেখান থেকে উন্নতজাতের আনারস বাজারে সরবরাহ করছেন। বাড়ি-ঘরের অঙ্গিনাতেও বাগানের পরিবর্তে আনারসের চারা রোপণ করে অনেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

রাবান এলাকার আনারস চাষি রবীন্দ্রনাথ জানান, তিনি এবছর তার চার বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার আনারস চারা রোপন করেন। আনারসের বাম্পার ফলন হওয়ায় ইতোমধ্যেই তিনি আনারস বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। মৌসুমের বাকি সময়ে তার আরো প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জিনারদী এলাকার চাষি আবুল কাশেম জানান, ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস চাষে এক নতুনমাত্রা যোগ করেছেন এই অঞ্চলের কৃষকেরা। তারা চারাগাছে ‘হারমনি স্প্রে’ ব্যবহার করায় গরমের শুরুতে সময়ের বেশ আগেই ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।