জাতীয় ঢাকা

বন্ধ হবে হয়রানি, ই-টিআইএন

DSC_053420130701181118হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) সম্পূর্ণ অটোমেশনের প্রক্রিয়ায় যোগ হলো ই-টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি।

জানা গেছে, করদাতা সুবিধাজনক স্থান ও সময়ে রেজিস্ট্রেশন করে সনদ প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। এতে সময়, শ্রম বাঁচবে। পাশাপাশি হয়রানি, দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। একের অধিক টিআইএন নিতে পারবেন না।

রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে একজন টিনধারীর সকল তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি এনক্রিপশন থাকায় সনদ জাল করা যাবে না। ফলে ভূয়া টিন নম্বর ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নির্ভূল হওয়ায় কর ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, কার্যকর এবং করদাতা বান্ধব করবে। এতে করদাতাদের সেবা প্রদান সহজ হবে।

আরো জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে অনলাইনে টিআইএন চালু করে। কিন্তু প্রক্রিয়াটি দুর্বল হওয়ায় ফাঁকিবাজ করদাতারা তার অপব্যবহার করেছেন।

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা হলেও সনদ দেয়া হতো করাঞ্চল থেকে। এতে একটি সনদ ইস্যু করতে এক সপ্তাহ লেগে যেতো। সনদ গ্রহীতাকে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা দিতে হতো।

২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজেটে ভূয়া টিন নাম্বার সনাক্তকরণে সনদ গ্রহণে এক হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দেয়ার বিধান চালু করা হয়। কিন্তু এতে হয়রানি বেড়ে যাওয়ায় পরবর্তী অর্থবছরে এ প্রথা তুলে দেয়া হয়।

জানা গেছে, টিআইএন ইস্যুর পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ ছিল। ভুয়া টিআইএন’র দায়ে শাস্তির বিধানও দুর্বল হওয়ায় তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।

এনবিআর’র সঠিক তদারকি না থাকা, আইনি দুর্বলতা ও সহজলভ্যতার কারণে ভূয়া টিআইএন বেড়েছে কয়েকগুণ।

পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, ঘুষ ও দীর্ঘ সময়ের জন্য করদাতা নিরুৎসাহিত হতো। ফলে নতুন করদাতারা টিন নম্বর প্রয়োজন হলে ভূয়া টিন সনদ তৈরি করে ব্যবহার করতো।

এতে সরকার হারাতো কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথমদিন ১লা জুলাই ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সে হয়রানি বন্ধ হয়ে গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ৬ লাখ ৮০ হাজার টিআইএনধারী ছিল।

বর্তমানে সারাদেশে বর্তমানে ৩২ লাখ টিআইএনধারী রয়েছে। যার মধ্যে ১৭ লাখের কিছু বেশি সক্রিয়। এদের মধ্যে সাড়ে ছয় লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বাকিরা সবাই ব্যবসায়ীও নন। প্রায় দেড় কোটি ব্যবসায়ী থাকলেও অনেকের টিআইএন নেই। অথচ ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানি পর্যায়, ব্যাংক ঋণ ও লেনদেন করতে হলে টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক। প্রায় ১০ লাখ ভূয়া টিআইএন এরইমধ্যে সনাক্ত করেছে এনবিআর।

বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মধ্যে ৫০ লাখ টিআইএনধারী খুঁজে বের করা হয়েছে। ২০১৩ সালে ৩ লাখ নতুন করদাতা সংগ্রহের মিশনে এনবিআর এরইমধ্যে ৫০ হাজার সনাক্ত করেছে। যাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার বাড়ি মালিক ও ২০ হাজার ব্যবসায়ী।

কর পরিসংখ্যান অনুযারী দেশে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ কর প্রদান করেন। দেশে এক কোটি লোক কর দিতে সক্ষম হলেও তা দিচ্ছে না।

এজন্য চলতি বছর থেকে প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বাড়ি, গাড়ি, জমি, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নিবার্চন, অভিজাত ক্লাব সদস্যসহ ১২টি ক্ষেত্রে কর অনুসন্ধানে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ২০১৫ সালের বাজেটে আয়করকে প্রথম খাত হিসেবে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে এনবিআর ও সরকার।

এ সম্পর্কে এনবিআর সদস্য (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়ন) রাহেলা চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘নতুন করদাতাকে ১ জুলাই ১০ ডিজিটের পরিবর্তে ১২ ডিজিটের একটি টিআইএন দেয়া হবে। ২০১৪ সালের মধ্যে পুরোপুরি ১০ ডিজিট উঠে যাবে। কোনো বিদেশি পরামর্শক ছাড়াই এনবিআর ১৩ সদস্য টিম ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করেছে।’

তিনি বলেন,‘‘ যুক্তরাজ্য সরকার ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) পরিচালিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়নে এ প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী গোটা কর ব্যবস্থাকে অটোমেশন করার অংশ হিসেবেও নতুন টিআইএন দেয়া হচ্ছে। পুরাতন টিআইএনধারীদের রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

বাংলাদেশ নিবাচন কমিশন ও রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফাম ডাটাবেজ তৈরিতে সহায়তা করছে। এ পদ্ধতিতে প্রচুর পরিমাণ করদাতা সনাক্ত ও রাজস্ব আদায় ব্যাপক বেড়ে যাবে বলে তিনি মত দেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সহজ পদ্ধতি। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি নির্ভয়ে করদাতারা কর দিতে উৎসাহিত হবে।’ এটি রাজস্ব আদায়ে আরো একটি মাত্রা।

রাজস্ব ভাণ্ডার বৃদ্ধি করতে এ পদ্ধতি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।