চট্টগ্রাম শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষকদের সম্মান এবং নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি

NSTU কামাল হেসেন মাসুদ, নোয়াখালী:নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সম্মান এবং নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ও উপাচার্যকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে। সোমবার শিক্ষক সমিতির এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন সমিতির সম্পাদক মারউপ উল আলম। তিনি জানান, শিক্ষকরা উপাচার্যকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিলেও তিনি শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে কোন প্রকার সাড়া না দেয়ায় ঘোষণা অব্যাহত থাকবে।

নোবিপ্রবির শিক্ষক সমিতির প্রচার সম্পাদক ফিসারিজ এন্ড মেরিন সাইন্সের সহকারী অধ্যাপক মফিজুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোন বিভাগীয় সমস্যা তৈরি হলে এর জন্য শিক্ষার্থীরা বিভাগের শিক্ষকদের দায়ী করেন। অথচ; শিক্ষক সংকট, ক্লাস রুম সংকট বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সমস্যার জন্য শিক্ষক দায়ী নয়। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বলা হলেও তাদের রোষানলে শিক্ষকদের পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দ্বারা বিভিন্ন সময় শিক্ষকরা তাদের সম্মান হারাচ্ছে। পার পেয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য তথা প্রশাসন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়নের শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদান ও প্রকৌশল শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাদের সাথে কর্তৃপক্ষ বৈঠকও করেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের বিভাগের শিক্ষকদের ওপর ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। প্রশাসন বলছে ফলিত রসায়ন বিভাগ চেষ্টা করলে নাকি তাদের ডিগ্রি প্রদান করতে পারে। অথচ; এর কোন সুযোগই বিভাগের নেই। যার কারণে শিক্ষার্থীরা গত ৩০ জুন রোববার ফলিত রসায়নের রফিকুল ইসলাম ও খায়রুল ইসলাম নামক দুই শিক্ষককে সকাল ৯টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত বিভাগের একটি কক্ষে আটক করে রাখে এবং শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণ ও তাদের গায়ে দুর্গন্ধজনিত পানি ছুড়ে মারে। পরে সকল বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে অনেকটা মুছলেকা দিয়ে দুই শিক্ষককে উদ্ধার করে। পরে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে সকল বিভাগের শিক্ষকরা এক হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল বিভাগের পাঠদান বর্জন, কর্মবিরতি ঘোষণা দেন। শিক্ষকদের সম্মান, নিরাপত্তা দেয়া এবং যেসব শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আল্টিমেটার দিয়েছেন। তিনি শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে কর্ণপাত না করায় উপাচার্যকে সকল বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে অবাঞ্চিতও ঘোষণা করেছে। যতক্ষণ না প্রশাসন এর কোন সুরহা না করবে ততক্ষণ এ ঘোষণাগুলো অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

অপর দিকে বিভিন্ন বিভাগের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সব কিছুর জন্য দায়ি উপাচার্য। তিনি নিয়মিত অফিস না করে ঢাকায় অবস্থান করেন। টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ, ভর্তি বাণিজ্যসহ এ যাবতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির সাথে ওতোপ্রতোভাগে উপাচার্য জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার সব অন্যায়ের কারণে শিক্ষার্থীদের ছাপের মুখে তথা রোষানলে পড়তে হচ্ছে নিরিহ শিক্ষকদের। ফলিত রসায়নের শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে তাদের দাবি না মানা হলে যে কোন বিভাগের শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে ধরে ধরে অপমান অপদস্ত ও সাইজ করা হবে। শিক্ষকরা আরও বলেন, যত অনিয়ম ভিসির। তিনি চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নিতে পারেন। কিন্তু কোন কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে উল্টো শিক্ষার্থীদের সাধরণ শিক্ষকদের ওপর ক্ষুব্ধ করে তুলছে। তবে শিক্ষকরা বলছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তাদের কোন অভিযোগ নেই। শিক্ষার্থীরা যা করছে তা একমাত্র উপাচার্য কর্তৃক ভুলবুঝে এবং তাঁর ইন্দনে বাধ্য হয়ে করছে।

ফলিত রসায়নের তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী দুই শিক্ষককে আটক রেখে তাদের সাথে অশোভন আচরণের কথা স্বীকার করে জানান, তাদের দাবীর বিষয়ে প্রশাসন তথা উপাচার্য বলছে এর জন্য বিভাগের শিক্ষকরা দায়ী। বিভাগ চেষ্টা করলে তাদের ডিগ্রী ও শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে। যার কারণে তারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এ.কে.এম সাঈদুল হক চৌধুরী সেলফোনে সকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শতবার ফোন করে তার সেলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য মিটিংএ রয়েছে।